স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: দীর্ঘ বিরতির পর আগামী ২৮ জুন, রোববার দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এবারের ক্যাম্পেইনে মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলী জানান, ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে সারা দেশে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের অধিকাংশ ইতোমধ্যে হাতে পৌঁছেছে এবং বাকি ক্যাপসুলও ১৯ জুনের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। অভিভাবকদের অনুরোধ থাকবে, তারা যেন তাদের সন্তানদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন।”
এদিকে বুধবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন পুনরায় চালু করা হয়েছে। কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ১৯ কোটি প্রাক-বিদ্যালয় বয়সী শিশু ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতির ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে রাতকানা, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং গুরুতর ক্ষেত্রে অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে।
বাংলাদেশে শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা প্রতিরোধে ১৯৭৩ সালে ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ হিসেবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ শুরু হয়। ১৯৯৫ সালে এটি জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং ২০০৩ সালে কর্মসূচির নামকরণ করা হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়।





