স্টাফ রিপোর্টার | ২০ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ-কে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সব নথি পাঠানো হয়েছে।
শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ডিএমপি কমিশনার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সম্মাননাপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্রুতগতিতে কাজ করছে। তিনি জানান, গত ১২ জুন আবুধাবির ফেডারেল পুলিশ ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোকে (এনসিবি) ই-মেইলে জানায় যে, বাংলাদেশের জারি করা রেড নোটিশের ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ওই ই-মেইলে ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ সরকার নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষা না করে পরদিনই প্রয়োজনীয় নথি পাঠিয়ে দেয়।
তিনি জানান, ওয়ারেন্ট, মামলার বিবরণীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ জন্য পুলিশ কর্মকর্তারা রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করে ১৪৪ পৃষ্ঠার নথিপত্র প্রস্তুত করেন এবং রাত ১০টায় জাতীয় সংসদে বসেই তিনি সেসব নথিতে স্বাক্ষর করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একই দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনানুষ্ঠানিক কপি দেওয়া হয় এবং পরদিন সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে নথিগুলো হস্তান্তর করেন। পরে সেগুলো আরবিতে অনুবাদ করে কূটনৈতিক ব্যাগের মাধ্যমে ইউএই সরকারের কাছে পাঠানো হয় এবং স্থানীয় ইউএই দূতাবাসকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ইউএই সরকার তাদের নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খুব শিগগিরই বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।
নথিপত্র পাঠানোর পর ইউএইর পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর আসেনি। ইউএইর আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। দেশটিতে শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় রোববার থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে খোঁজ নেওয়া হবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউএইর সঙ্গে বাংলাদেশের মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) চুক্তি রয়েছে এবং জাতিসংঘ সনদের আওতায় উভয় দেশই কিছু আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার অংশীদার।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অসাধারণ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দক্ষতার পরিচয় দেওয়া ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আজকের এই স্বীকৃতি শুধু সম্মাননাপ্রাপ্ত সদস্যদেরই নয়, বাংলাদেশ পুলিশের সব সদস্যকে আরও নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অনুপ্রাণিত করবে।”





