বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সবসময় শান্তির পক্ষে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডারের সঙ্গে বৈঠকে মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

স্টাফ রিপোর্টার | ৪ আগস্ট ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের অবস্থান সবসময় শান্তির পক্ষে। তিনি মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিফেন টি. কোহলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৈঠকে মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা ও অবদান নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের পর যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত ‘অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল’-এর কথা স্মরণ করেন।

বৈঠকে অ্যাডমিরাল স্টিফেন টি. কোহলার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নৌমহড়ায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর যৌথ প্রশিক্ষণ ও মহড়া কারাত (CARAT–Cooperation Afloat Readiness and Training) অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া তিনি সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সি ভিশন এক্সারসাইজ (Sea Vision Exercise)-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে বিশ্বের বৃহত্তম বহুজাতিক নৌমহড়া রিম অব দ্য প্যাসিফিক (রিমপ্যাক)-এ বাংলাদেশের নিয়মিত অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, বৈঠকে জিএসওএমআইএ (General Security of Military Information Agreement-GSOMIA) বিষয়ে দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও এর অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং যুগোপযোগী ও বিস্তৃত সহযোগিতার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহ রয়েছে।

অ্যাডমিরাল স্টিফেন টি. কোহলার বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদানেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।