স্টাফ রিপোর্টার | ১১ আগস্ট ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: পার্বত্য অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও জরুরি পরিস্থিতিতে খাদ্য সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে তিন পার্বত্য জেলায় নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পার্বত্য এলাকার মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বর্ষা মৌসুম, ভূমিধসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় খাদ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটে। এ কারণে তিন পার্বত্য জেলায় নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে জরুরি সময়ে খাদ্য মজুত ও সরবরাহ সহজ হবে এবং দুর্গম এলাকার মানুষ দ্রুত খাদ্য সহায়তা পাবেন।
তিনি জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫৫ লাখ গ্রামীণ দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারকে প্রতি মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশের বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। সরকার এটিকে শিক্ষার মানোন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখছে। অতীতে শুধু পাসের হার বাড়ানোর প্রবণতা ছিল। বর্তমান সরকার শিক্ষার প্রকৃত মান নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে সম্প্রতি কর্মঘণ্টার মধ্যে একজন চিকিৎসককে বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারি চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি স্পষ্ট বার্তা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রীদের ভোগান্তির প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা জানান, বিমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বিদেশের নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে পাওয়া না যাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে সেটি পাঠাতে হয়েছে। একই সঙ্গে ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত কারণে যাত্রীরা বিমানবন্দরের বাইরে যেতে না পারায় অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পড়েন। এ ঘটনায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি উদ্বোধন হওয়া গণ-অভ্যুত্থান জাদুঘর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। উদ্বোধনের প্রথম দিকে দর্শনার্থীর অতিরিক্ত চাপের কারণে কিছু ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা হলেও তা দ্রুত সমাধান করা হয়েছে। বর্তমানে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারছেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের আওতাধীন দেশের ২২টি পরমাণু চিকিৎসা ইনস্টিটিউট ও ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের মাধ্যমে ৮২ হাজার ৩৭৬ জন রোগীকে পিইটি-সিটি স্ক্যান, থাইরয়েড স্ক্যান, রেডিওথেরাপি, বোন মিনারেল ডেনসিটি (বিএমডি) পরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যের তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষার আওতায় ২ হাজার ৪১টি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ সম্পর্কে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা মহানগরীসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় মাঠ সংরক্ষণ, দখলমুক্ত করা এবং নতুন মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নগরায়ণের কারণে অনেক খেলার মাঠ হারিয়ে গেছে বা দখল হয়ে গেছে। সরকার এসব মাঠ পুনরুদ্ধার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন মাঠ নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের অতিরিক্ত মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইসনির্ভরতা কমিয়ে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেও কাজ করা হচ্ছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা এবং শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করে একটি মানবিক ও টেকসই উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে।





