দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ আগস্ট ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

শনিবার রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস। এই সময়ে সরকার কীভাবে জনগণের উন্নয়নে কাজ করছে, তা দেশের মানুষ ইতোমধ্যে দেখেছেন। অতীতে দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে জনগণের সামনে ৩১ দফা উপস্থাপন করা হয়েছিল। এতে অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প, কর্মসংস্থান এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠনের পর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। দেশের ১৩ লাখ কৃষকের কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচিও পুনরায় শুরু করা হয়েছে। গত ছয় মাসে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানির সুবিধা পাচ্ছেন এবং কৃষকরা সেচ সুবিধা পাচ্ছেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশু পড়াশোনা করে। তাদের প্রত্যেককে বছরে একটি করে নতুন স্কুল ড্রেস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগও দেওয়া হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু হবে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে দেশের উপজেলা হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। প্রথমে ৫০ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তিন দিন আগে তা ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলা হাসপাতালে এ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে।

দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা দেনা রেখে যাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় দেশে নতুন গ্যাস কূপ খনন করা হয়নি।

তারেক রহমান বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাপেক্সের মাধ্যমে দেশের নিজস্ব গ্যাস সম্পদ অনুসন্ধান ও সংরক্ষণ কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে বিদেশ থেকে জাহাজের মাধ্যমে গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্যাস সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত দুটি জাহাজের একটিতে দুর্ঘটনা ঘটায় সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। কারিগরি ত্রুটি ইতোমধ্যে সারানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস সংকট অনেকাংশে কমে আসবে।

তৃতীয় একটি গ্যাসবাহী জাহাজ আনার উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা দ্রুত জাহাজ তৈরি করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে এবং দেশটি বাংলাদেশকে গ্যাসের ক্ষেত্রে সহযোগিতার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, জনগণের জন্য বিএনপির সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী সংসদে আগামী ১০ বছরে দেশের জ্বালানি সমস্যা কীভাবে সমাধান করা হবে, সে পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানে সরকারের চেয়ে ভালো পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে কেউ ভালো পরিকল্পনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারলে সরকার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য গুজব ছড়ানো উচিত নয়। জনগণের প্রতি দায়িত্ব থাকলে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের পরিকল্পনা জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।

বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি কী পেলেন সেটি বড় বিষয় নয়; দেশ ও দেশের মানুষকে কী দিতে পারলেন সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেখানো পথে এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের আদর্শ অনুসরণ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি ও প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।