স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ আগস্ট ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আগামীকাল শনিবার দেশব্যাপী মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপির দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগামীকাল সকাল ১১টায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিজ নিজ এলাকায় আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও চোখের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাও ছিল তাঁর।
হার্ট ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর গত বছরের ২৩ নভেম্বর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা তদারকি করে।
মৃত্যুর সময় বেগম খালেদা জিয়ার শয্যাপাশে ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। পরিবারের অন্যান্য সদস্য, বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং তাঁর চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরাও উপস্থিত ছিলেন।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁদের আদি বাড়ি ফেনীতে। তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন। এ সময় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ও নেদারল্যান্ডসের রানি জুলিয়ানাসহ বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়।
১৯৮১ সালে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে বিএনপির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন।
১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন বেগম খালেদা জিয়া। পরে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবে পরিচিত।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া নানা রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, গ্রেফতার, কারাবাস ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। বিএনপির নেতৃত্বে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পাঁচটি পৃথক আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই বিজয়ী হন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কোনো নির্বাচনে কোনো আসনে পরাজিত না হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।





