স্টাফ রিপোর্টার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
ঢাকা : শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন পাকিস্তানি শোষকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের সম্মুখসারির যোদ্ধা।
আগামীকাল শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবীরা তাঁদের মেধা ও প্রজ্ঞার প্রয়োগ, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যুদ্ধকালীন সরকারকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও কৌশলগত পরামর্শ দিয়ে জাতিকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিতেও তাঁদের অবদান ছিল অসামান্য।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে এক দুঃখজনক ও কলঙ্কময় দিন। মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে দেশের বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে।”
তিনি শোকাবহ এ দিনে শহীদ বুদ্ধিজীবীসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের বিদেহ আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করেন।
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাঙালি জাতির বিজয়ের প্রাক্কালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা দেশের শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, আইনজীবী, শিল্পী, প্রকৌশলী, দার্শনিক, রাজনৈতিক ও চিন্তাবিদসহ অসংখ্য মেধাবী সন্তানকে গুম ও হত্যা করে। স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে থাকা বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করে একটি ব্যর্থ জাতিতে পরিণত করাই ছিল স্বাধীনতাবিরোধীদের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা একটি গণতান্ত্রিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করেছে। এর মধ্য দিয়েই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আজীবন লালিত স্বপ্ন সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জাতির প্রতি নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আসুন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা গড়ে তুলি একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও আগামীর বাংলাদেশ।”





