স্টাফ রিপোর্টার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকোয়ারি জানিয়েছে, বলপূর্বক গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। রোববার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা -এর কাছে জমা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি , সদস্য বিচারপতি , নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস ও সাজ্জাদ হোসেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব ।
কমিশনের তথ্যমতে, মোট ১ হাজার ৯১৩টি গুমের অভিযোগ জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭টি অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।

কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস জানান, এখনো অনেকে অভিযোগ নিয়ে আসছেন এবং প্রকৃত গুমের সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার হতে পারে। অনেক ভিক্টিম বা তাঁদের পরিবার কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বা বিদেশে চলে গেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গুম ছিল একটি পলিটিক্যালি মোটিভেটেড ক্রাইম। জীবিত ফিরে আসা ভিক্টিমদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবির এবং ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। এখনো নিখোঁজদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের এবং ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।
হাই প্রোফাইল গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী , তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। উল্লেখযোগ্য ভিক্টিমদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা , , জামায়াত নেতা সহ আরও অনেকে।
কমিশন জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজে অনেক গুমের ঘটনায় সরাসরি নির্দেশদাতা ছিলেন। এছাড়া ভিক্টিমদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে রেন্ডিশনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশের ইঙ্গিত দেয়।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস কমিশনের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রশংসা করে বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক কাজ। তিনি বলেন, এই প্রতিবেদন প্রমাণ করে কীভাবে গণতন্ত্রের লেবাস পরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে মানুষের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের নৃশংসতা আর ফিরে না আসে, সে জন্য প্রতিকারের পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবেদন সহজ ভাষায় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও ভবিষ্যৎ করণীয় উপস্থাপনের কথাও বলেন। পাশাপাশি আয়নাঘরসহ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের স্থানগুলো ম্যাপিং করার নির্দেশনা দেন। কমিশনের তথ্যে উঠে এসেছে, বরিশালের বলেশ্বর নদী, বুড়িগঙ্গা নদী ও মুন্সিগঞ্জ এলাকায় সবচেয়ে বেশি লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে।
শেষে কমিশনের সদস্যরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন, ভিক্টিমদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।





