স্টাফ রিপোর্টার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বলেছেন, “আমি আমৃত্যু আপনাদের পাশে থেকে রাজনীতি করতে এসেছি। জনগণের অধিকার, দাবি ও সমস্যা নিয়ে ইনশাআল্লাহ শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করে যাবো।”
রবিবার রাজধানীর ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী –এর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথচলা শুরু হয়েছে এবং এই আন্দোলনে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই বিএনপি এগিয়ে যেতে চায়।
তিনি বলেন, ঢাকা-৬ আসনে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মা-বোনেরা রান্না করতে পারছেন না, শিশুদের খাবার প্রস্তুত করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে তিতাস গ্যাসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং একটি টেকনিক্যাল টিম এলাকায় সার্ভে করে প্রতিবেদন দিয়েছে। সেখানে জাতীয় পর্যায়ে গ্যাসের ঘাটতি, পুরোনো পাইপলাইন ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সংযোগকে সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে এখন সরাসরি কাজ করা সম্ভব না হলেও ফোনের মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব সমাধানের চেষ্টা চলছে। “নির্বাচনের পর প্রতিটি গলি, প্রতিটি পাইপলাইনে আমি নিজে দাঁড়িয়ে ইঞ্জিনিয়ার এনে ঠিক করে দেবো,”—বলেন তিনি।
যানজট, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার বিরুদ্ধে সমন্বিত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, এই অঞ্চলের যানজট শুধু সময় নষ্ট করে না, বরং বায়ুদূষণ বাড়িয়ে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। একইসঙ্গে পুরোনো ও অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অপরিকল্পিত উঁচু ভবন এবং অপর্যাপ্ত রাস্তার কারণেই সামান্য বৃষ্টিতে এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিএনপির পরিকল্পনায় ঢাকা-৬ এলাকায় আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম অগ্রাধিকার হবে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ, হিন্দু-মুসলমান—সবাই যেন নিরাপদ বোধ করে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার পরিকল্পিতভাবে সমাজে মাদক ছড়িয়ে দিয়েছে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের সংসদ সদস্য পর্যন্ত বানানো হয়েছে।
বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসার ঘোষণা দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে সবচেয়ে দরিদ্র নাগরিক পর্যন্ত সবাই সমান মানের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা পাবে।
শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ বা খেলার জায়গা গড়ে তোলার ঘোষণাও দেন তিনি। তিনি বলেন, এলাকার মাঠটি খুব দ্রুত সংস্কার করা হবে।
জনগণের কাছে জবাবদিহিতার অঙ্গীকার করে ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপি একমাত্র দল যারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, যানজট ও নাগরিক সেবার জন্য সুনির্দিষ্ট ও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা দিয়েছে। “আমি ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করি। অতীতেও করেছি, আগামীতেও করবো। আপনারাই আমাকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখবেন,”—বলেন তিনি।
তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া কামনা করেন এবং বিএনপির চেয়ারম্যান –এর নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মকবুল হোসেন টিপু, সদস্য মো. আক্তার হোসেন, সূত্রাপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক আজিজুল ইসলাম আজিজ, সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন মোল্লা, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তারেক আহমেদ জন, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান খান প্রদীপসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।





