শিপিং কর্পোরেশনকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

সরকারের অনুকূলে ২০৩.৪৭ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেছে বিএসসি

স্টাফ রিপোর্টার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, (বিএসসি)-কে একটি শক্তিশালী ও লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরে রাখতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএসসি যেভাবে লাভজনক অবস্থানে এসেছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আজ বুধবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিএসসি কর্তৃক বাস্তবায়িত ৬টি জাহাজ ক্রয় প্রকল্পের জন্য গৃহীত ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত Subsidiary Loan Agreement (SLA) অনুযায়ী কিস্তি এবং ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে ঘোষিত লভ্যাংশ থেকে সরকারের পাওনা বাবদ মোট ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন -তে প্রধান উপদেষ্টার কাছে চেক হস্তান্তর করেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এবং বিএসসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে এমনভাবে পরিকল্পনা নিতে হবে যেন প্রতিষ্ঠানের আয় দিয়েই বিএসসি আরও শক্তিশালী হয় এবং বহরে নতুন নতুন জাহাজ যুক্ত হয়। তিনি বলেন, বহরে জাহাজ বাড়লে নাবিকদের মধ্যে উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে মেরিন একাডেমিগুলোর প্রশিক্ষকদের যথাযথ সম্মানী দিয়ে ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে তারা বিশ্বমানের নাবিক তৈরি করতে পারেন।

অনুষ্ঠানে কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, জি-টু-জি ভিত্তিতে ৬টি জাহাজ ক্রয়ের লক্ষ্যে বাস্তবায়িত প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও চীন সরকারের -এর মধ্যে ১৪ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই ঋণের মূল পরিমাণ ছিল ১,১৯৯,৯৯৯,০৭০ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১,৪৫৭.৬৮ কোটি টাকা।

পরবর্তীতে ২৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে অর্থ বিভাগ ও বিএসসি’র মধ্যে SLA স্বাক্ষরিত হয়, যার আওতায় মোট ২,৪২৫.০২ কোটি টাকা ১৩ বছরের মধ্যে সরকারকে পরিশোধ করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী গ্রেস পিরিয়ডকালীন সুদের অর্থ ৪৭৫.২৫ কোটি টাকার চেক গত ২৬ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ২৭ বছর পর ২০১৮–১৯ অর্থবছরে প্রকল্পটির মাধ্যমে বিএসসি’র বহরে ৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ যুক্ত হয়। এর মধ্যে বর্তমানে ৫টি জাহাজ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত থেকে বাংলাদেশের পতাকা বহন করছে। বিএসসি তার ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বশেষ অর্থবছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় করে সর্বোচ্চ ৩০৬.৫৬ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে।

প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বিএসসি ইতোমধ্যে নতুন জাহাজ সংগ্রহে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার, সরকারি অর্থায়নে দুটি এমআর প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার এবং নিজস্ব অর্থায়নে একটি আল্ট্রাম্যাক্স বাল্ক ক্যারিয়ার সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি, চীন থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে আরও চারটি বড় জাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।