৫–৭ দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ, মামলাও প্রত্যাহারের উদ্যোগ
স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি, ঢাকা
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের ফৌজদারি দায়মুক্তি দিতে একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। অধ্যাদেশটি আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়ে আইনে পরিণত হবে।
বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অধ্যাদেশের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ সরকারের একটি ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের জন্য কাউকে ফৌজদারি মামলায় জড়ানো যাবে না।

ছবি: সংগ্রহীত
তিনি জানান, অধ্যাদেশ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কর্মকাণ্ডের কারণে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলাগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবে সরকার। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য নতুন করে কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না।
তবে রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে ব্যক্তিগত বা সংকীর্ণ স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বা সহিংসতার ক্ষেত্রে এই দায়মুক্তি প্রযোজ্য হবে না বলে স্পষ্ট করেন আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, লোভ, প্রতিশোধ কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক প্রতিরোধ হিসেবে গণ্য করা হবে না এবং এসব ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোন হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ এবং কোনটি ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত—তা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-কে। ভুক্তভোগীর পরিবার চাইলে কমিশনে আবেদন করতে পারবে এবং কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের মতোই বিবেচিত হবে।
আইন উপদেষ্টা আরও জানান, মানবাধিকার কমিশন প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের সুপারিশও করতে পারবে। তিনি বলেন, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই নতুন মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হবে, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ও কার্যকর কমিশন হবে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক হয়রানিমূলকভাবে দায়ের করা প্রায় ২০ হাজার মামলা ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি বিশেষ সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের দায়মুক্তির বিধান দেখা গেছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদেও এ ধরনের আইন প্রণয়নের সুযোগ রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ হত্যাসহ যেকোনো সহিংস ঘটনার ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। রাজনৈতিক প্রতিরোধের সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো অপরাধ দায়মুক্তির আওতায় পড়বে না।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।





