স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ই জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
জাতীয় নির্বাচনের আগে চলমান জোট রাজনীতিতে এখনো ইতিবাচক সমাধানের প্রত্যাশা করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি আশা করছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনী জোটের অংশ হবে। তবে সেটি সম্ভব না হলেও, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ইতোমধ্যে হওয়া ৩০টি আসনের সমঝোতা এবং অন্যান্য ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আওতায় এই আসনের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছে এনসিপি।
এনসিপির নেতারা জানান, জোটের প্রতি সম্মান রেখেই দলটি মনোনয়ন দাখিলের ক্ষেত্রে সংযম দেখিয়েছে। ঘোষিত ১২৫ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা থেকে মাত্র ৪৭ জনকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জোট গঠনের স্বার্থে এনসিপি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে বলেও তারা দাবি করেন।
নেতারা আরও বলেন, এই জোট কোনো আসনভিত্তিক লেনদেনের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। বরং সংস্কার, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি ন্যায্য নির্বাচনী ব্যবস্থার মতো মৌলিক নীতির ভিত্তিতেই এই ঐক্য গড়ে উঠেছে। আসন সংখ্যা নয়, নীতিগত ঐক্যই এখানে মুখ্য।
বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে বলে জানায় এনসিপি। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত আলোচনার মাধ্যমেই জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। নেতারা বলেন, পরিকল্পিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তাই গুজব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের কোনো ভিত্তি নেই।
প্রবাসী ভোটাধিকার প্রসঙ্গে এনসিপি নেতারা বলেন, পোস্টাল ব্যালট বন্ধের দাবি গণতন্ত্রের জন্য একটি অশনিসংকেত। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করছে এনসিপি এবং এবার সীমিত পরিসরে হলেও সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের প্রায় এক থেকে দেড় কোটি প্রবাসী নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই দলটি কাজ করে যাবে।
তথাকথিত গণতান্ত্রিক দলগুলোর পক্ষ থেকে পোস্টাল ব্যালট বাতিলের মতো বক্তব্যে গভীর হতাশা প্রকাশ করে এনসিপি। তারা মনে করে, ভোটাধিকার সংকুচিত করার যেকোনো উদ্যোগ গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী।
এনসিপি নেতারা স্পষ্ট করে বলেন, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নীতিগত অবস্থান থেকে দল কখনোই সরে আসবে না।




