এই নির্বাচনে দুইটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটছে: প্রবাসী ভোট ও গণভোট—আসিফ নজরুল

গণভোট কোনো দলের নয়, এটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে জনগণের ম্যান্ডেট—আইন উপদেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার ১৯ জানুয়ারি ২০২৬নিউজ চ্যানেল বিডি


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশে দুটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, “এই প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।”

গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব গ্রহণের সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তিনটি প্রধান কাজ নির্ধারণ করেছিল—সংস্কার, গণহত্যাকারীদের বিচার এবং নির্বাচন

আসিফ নজরুল বলেন, “সংস্কার মানে এমন একটি ব্যবস্থা পরিবর্তন করা, যার মাধ্যমে আয়নাঘর তৈরি করা যেত, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটত, মানুষ গুম হতো, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে বছরের পর বছর বিচার ছাড়াই জেলে আটকে রাখা হতো।”

তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী শাসনামলে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। “বেগম খালেদা জিয়াকে পর্যন্ত ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল,”—বলেন তিনি।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যেন বালিশের দাম ১২ হাজার টাকা না হয়, ১০টি পদ্মা সেতু নির্মাণের অর্থে যেন ২–৩টি সেতু না বানানো হয়, দেশের টাকা যেন বিদেশে পাচার না হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক যেন লুট না হয় এবং কোনো দেশের কাছে যেন আমাদের নত হয়ে থাকতে না হয়—এই লক্ষ্যেই সংস্কার প্রয়োজন ছিল।”

আইন উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সীমিত ক্ষমতার মধ্যেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যবিধিতে সংস্কার আনা হয়েছে এবং লিগ্যাল এইড কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বড় ধরনের সংস্কারের জন্য সংবিধান পরিবর্তনের প্রয়োজন হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সে ক্ষমতা নেই। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে কোথায় কোথায় বড় পরিবর্তন দরকার, তা ‘জুলাই সনদ’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো এতে ঐক্যমত পোষণ করেছে।

গণভোটের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে আসিফ নজরুল বলেন, “রাজনৈতিক দল ও সরকার একমত হলেও জনগণের মতামত নেওয়া হয়নি। জনগণের মতামত নেওয়ার জন্যই এই গণভোট।”

তিনি বলেন, “আপনি যদি চান এই দেশ থেকে বৈষম্য, নিপীড়ন, অবিচার ও দুর্নীতি দূর হোক—তাহলে আপনি হ্যাঁ ভোট দেবেন। আর যদি আপনি চান আগের মতো দুর্নীতি, বৈষম্য ও একচ্ছত্র ক্ষমতার চর্চা চলুক—তাহলে আপনি না ভোট দেবেন।”

শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই গণভোট কোনো দলের স্বার্থে নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের ম্যান্ডেট। দেশের স্বার্থে আমরা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলছি এবং তাদের সচেতন করার চেষ্টা করছি।”