স্টাফ রিপোর্টার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এলাকাবাসীর কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে একটি সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর ওয়ারীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে তৃতীয় দিনের নির্বাচনী প্রচারণার আগে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, “এলাকার সন্তান ও আপনাদের একজন ভাই হিসেবে আমি আপনাদের সামনে এসেছি একটি দাবি ও আবদার নিয়ে। আমি আপনাদের জন্য কাজ করতে চাই।” তিনি আরও বলেন, রাজনীতিকে তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণের মাধ্যম হিসেবে নিয়েছেন এবং একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করতে চান।
পথসভায় তিনি ওয়ারীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, এই ওয়ার্ড নগরীর বহুমুখী সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জর্জরিত। বিশেষ করে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে গৃহিণীরা রান্নাবান্না করতে পারছেন না, শিশুদের স্কুলের টিফিন তৈরি করা যাচ্ছে না। অনেক পরিবারকে রাত দুইটা-তিনটার সময় উঠে পরদিনের রান্না করতে হচ্ছে। এতে দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে এবং বাইরে থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হওয়ায় ব্যয়ও বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন রাস্তাঘাট রক্ষণাবেক্ষণ না করায় সড়কগুলো ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে, হাঁটাচলা ও যান চলাচল প্রায় অযোগ্য। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে সড়ক মেরামত এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল না করলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।
পরিবেশ দূষণের বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় এলাকার পরিবেশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে এবং বিষাক্ত বাতাসে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। তিনি নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার সমাধানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং প্রয়োজনে সংসদে বিষয়গুলো উত্থাপন করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
তিনি বলেন, এলাকায় মাদকের প্রকোপ বেড়েছে, অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলে চাঁদাবাজি হচ্ছে এবং যত্রতত্র গণপরিবহন পার্কিং করে ফুটপাত দখল করা হচ্ছে। এতে যানজট বেড়ে জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নির্বাচিত হলে অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করে নির্দিষ্ট স্থানে গণপরিবহন পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করবেন বলেও জানান তিনি, যাতে জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাস্তা নিশ্চিত করা যায়।
যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাস রুট র্যাশনালাইজেশন ছাড়া যানজট নিরসন সম্ভব নয়। পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মনোরেল নির্মাণ আরও যুক্তিসঙ্গত হতে পারত। ঢাকার জন্য মনোরেল এবং পুরান ঢাকার ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ রেল অধিক উপযোগী হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি, যদিও তা ব্যয়বহুল। ভবিষ্যতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবি তোলার কথাও বলেন তিনি।
এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে ইশরাক হোসেন বলেন, “আমরা আন্দোলন-সংগ্রামে একসঙ্গে ছিলাম, জেল খেটেছি, রাজপথে গুলির মুখে দাঁড়িয়েছি। আগামী দিনেও একসঙ্গে দাঁড়িয়ে একটি বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলব।”
পথসভায় তিনি তার বাবার জন্য এবং সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া চান। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।





