স্টাফ রিপোর্টার,২৮ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি
ক্ষমতায় যেতে পারলে আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এটি সম্ভবত তার জীবনের শেষ নির্বাচন।
এক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করা হলে তিনি এলাকার মানুষের সব সমস্যার সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা অবিরাম লড়াই ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গেছে। শুধু ঠাকুরগাঁও অঞ্চলেই প্রায় ৭০টি মামলা হয়েছে এবং সেখানে সাড়ে তিন হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষকে রাজনৈতিক মামলার আসামি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা ছিল এবং তিনি ১১ বার কারাবরণ করেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ছয় বছর কারাবন্দি ছিলেন এবং তিনি নিজে সাড়ে তিন বছর জেলে ছিলেন।
তিনি বলেন, চলতি বছরের আগস্ট মাসের ৫ তারিখ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ওইদিনই তারা মুক্তি পান এবং একই দিন বেগম খালেদা জিয়াও মুক্ত হন।
মুক্তির পর বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত নির্যাতন ও জেল-জুলুমের পরও তিনি প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি না করে শান্তি ও ভালোবাসার মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানান। এখানেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচনে জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা দেশে শান্তি, উন্নয়ন, স্কুলের উন্নতি, রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং ছেলে-মেয়েদের কর্মসংস্থান চান কি না। এসব চাইলে পরীক্ষিত দল বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা একসময় বিএনপির সঙ্গে সরকারে ছিল তারাও এখন দুর্নীতির অভিযোগ করছে। অথচ সেই সরকারের অংশ হয়ে তারা দায় এড়াতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারের সময় বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল। কলকারখানা গড়ে উঠেছিল এবং পোশাক শিল্পে প্রায় ১৫ লাখ নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছিল। সে সময় মেয়েদের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়াশোনার ব্যবস্থা করেন বেগম খালেদা জিয়া, যার সুফল আজও দেশের নারীরা পাচ্ছেন। এর ফলে নারীরা উচ্চশিক্ষা নিয়ে ডাক্তার ও প্রকৌশলী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।





