নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অর্ডার ফেরাতে সবার সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন: আমির খসরু

বিএনপি শান্তি, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির রাজনীতি থেকে সরে আসবে না বলেও জানান তিনি

স্টাফ রিপোর্টার২৯ জানুয়ারি ২০২৬ নিউজ চ্যানেল বিডি

নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সব রাজনৈতিক শক্তির আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এমন একটি গোষ্ঠী রয়েছে যারা আদতে নির্বাচনই চায়নি এবং এখনো গণতন্ত্র ও জনগণের রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় তাদের বিশ্বাস আছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের চাপ, গণতান্ত্রিক বিশ্বের চাপ এবং মুক্ত গণতন্ত্রকামী জনগণের চাপে অনেকেই বাধ্য হয়ে নির্বাচনে এসেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তারা এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করছে কিনা এবং গণতন্ত্রকে হৃদয়ে ধারণ করছে কিনা।

আমির খসরু বলেন, উপরে উপরে অনেকেই গণতন্ত্রের কথা বলছে, কিন্তু বাস্তবে তারা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরে আসুক, জনগণের মালিকানা ও রাজনৈতিক সাংবিধানিক অধিকার পুনরুদ্ধার হোক—এই বিষয়গুলো সবাই সত্যিকার অর্থে চায় কিনা, সেটিও সন্দেহের বিষয়।

বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সহনশীলতা, পরস্পরের প্রতি সম্মানবোধ এবং শান্তি-স্থিতিশীলতার যে রাজনীতি বিএনপি করে আসছে, সেখান থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি সেই পথেই অবিচল থাকবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণ ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে। আজও সেই আস্থার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দেশজুড়ে বিএনপি ও ধানের শীষের প্রতি মানুষের উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসায়।

আমির খসরু বলেন, অন্য দলগুলোরও উচিত উসকানিমূলক বক্তব্য, প্রপাগান্ডা কিংবা সহিংসতা উসকে দেওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা। জনগণের আস্থা ছাড়া কোনোভাবেই গণতন্ত্রের পথ সুগম করা সম্ভব নয়।

নির্বাচনকালে ছোটখাটো ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনে এ ধরনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। এসব বিষয়কে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার প্রয়োজন নেই।

বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, বিএনপি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন চায়, সহনশীলতা চায়, পরস্পরের প্রতি সম্মানবোধ চায় এবং শান্তি চায়। তারেক রহমান ঢাকায় এসে বারবার শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন। এই শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ঐক্যের সংস্কৃতি রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করতে বিএনপি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।