মিথ্যা মামলা আর দমন-পীড়নের কথা স্মরণ করে প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, নতুন বাংলাদেশের বার্তা মির্জা ফখরুলের

নির্বাচনী সমাবেশে অতীত নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শান্তি ও উন্নয়নের রাজনীতির কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব

স্টাফ রিপোর্টার, ২৯ জানুয়ারি২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি

ভোটের উদ্দেশ্যেই আজ জনগণের সামনে এসেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এর মধ্যে অনেক সময় পেরিয়ে গেছে এবং সেই সময়ে সবচেয়ে বড় কষ্টের বিষয় ছিল গত ১৫–১৬ বছর জনগণের সামনে সরাসরি আসতে না পারা।

তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময় দেশের সরকার ছিল জুলুমবাদী। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। নিজের বিরুদ্ধে ১১৭টি মামলার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এমন সব অভিযোগ আনা হয়েছে যা কল্পনাও করা যায় না।

তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে আমি নাকি ঢাকার পৌরসভার ময়লা টানার গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছি, আবার বলা হয়েছে আমি বোমা মেরেছি। একইভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেও অবিশ্বাস্য সব মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।”

বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, সারা দেশে প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছিল। পুলিশের তাড়ায় নেতাকর্মীরা গাছ, ধানক্ষেত, কান্দের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল। ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, অতীতে অনেক নির্যাতন হয়েছে, অনেক মানুষ নিহত ও গুম হয়েছে। তবে বিএনপি সেই অতীতে ফিরে যেতে চায় না, সামনে এগিয়ে যেতে চায়।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ছয় বছর কারাভোগের পরও শেখ হাসিনার পতনের দিন দেশনেত্রী মাত্র কয়েক লাইনের বক্তব্যে প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধ নয়, বরং ভালোবাসা ও ঐক্যের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “এটাই বিএনপির রাজনীতি। এটাই বেগম খালেদা জিয়া, শহীদ জিয়াউর রহমান এবং তারেক রহমানের আদর্শ।”

তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি উন্নয়নের কথা বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন। প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি তার বক্তব্যে নেই। আইন আইনের পথে চলবে, আর রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশ পরিচালনা ও উন্নয়নে মনোযোগ দেবে—এই নীতিতেই বিএনপি বিশ্বাস করে।