রংপুরের সমাবেশে অতীত জোট রাজনীতি ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে কঠোর বক্তব্য
স্টাফ রিপোর্টার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
বিএনপি যদি রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘খারাপ’ হয়, তাহলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন টানা পাঁচ বছর জোটসঙ্গী হিসেবে ছিল—এই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ।
শুক্রবার রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে তিনি বলেন, একটি দল গত কয়েক দিন ধরে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। ইঙ্গিত করে তিনি -এর সমালোচনা করেন।
২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। ওই সরকারে প্রধান শরিক ছিল জামায়াতে ইসলামী। এই প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ভালো মানুষের সঙ্গেই ভালো মানুষ থাকে। বিএনপি যদি খারাপ দলই হয়, তাহলে তারা পাঁচ বছর কেন সঙ্গে ছিল—এই প্রশ্নের উত্তর জামায়াতকেই দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, হয় দলটির নেতৃত্ব বিভ্রান্তিতে ভুগছে, নয়তো নিজেদের অবস্থান নিয়েই তারা ভুল কথা বলছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান
সমাবেশে তারেক রহমান ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় ব্যালট পেপারে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিতে হবে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতেই জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।
তিস্তা ব্যারেজ ও অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি
রংপুর অঞ্চলের পানি সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন, উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তা, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ এবং এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্রঋণ সরকারিভাবে পরিশোধের ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেন।
‘আবু সাঈদের রক্তে ভেজা রংপুর’
বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান বলেন, রংপুর আবু সাঈদের পবিত্র রক্তে ভেজা মাটি। জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে পারে না। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই সেই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে তিনি পীরগঞ্জে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। নেতাকর্মীদের ভিড় পেরিয়ে সন্ধ্যার পর তিনি সমাবেশস্থলে পৌঁছান এবং প্রায় ২৫ মিনিট বক্তব্য দেন।
সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব সহ রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ৩৩ আসনের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন।





