স্টাফ রিপোর্টার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
খুলনার খালিশপুরে এক জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান অভিযোগ করেছেন যে, নারী সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করেছে এবং নির্বাচনকে ঘিরে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তিনি দেশবাসীকে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
সোমবার দুপুরে খালিশপুরের প্রভাতি স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি বলেন, দীর্ঘ এক যুগের আত্মত্যাগের পর জনগণের ভোটাধিকার বাস্তবায়নের সময় ঘনিয়ে এসেছে। কিন্তু একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ভোট গণনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তার ভাষায়, “যারা নারী সমাজকে অপমান করছে, তারাই আজ নানা ছলচাতুরীর মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।”
তারেক রহমান বলেন, জনগণ যেন আবার তাদের অধিকার হারিয়ে না ফেলে, সে জন্য সবাইকে আজ থেকেই সজাগ থাকতে হবে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব এবং সেই লক্ষ্যেই দলটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপির রয়েছে। অতীতে বিএনপি সরকার দেশকে দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের করে এনেছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
নারী সমাজ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে উন্নয়ন অসম্ভব। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে নারী নেতৃত্ব ও নারীর কর্মসংস্থানের বিরোধিতা করে তাদের অপমান করেছে। তিনি বলেন, যারা নির্বাচনের আগে নারীদের এভাবে হেয় করে, ক্ষমতায় গেলে তাদের আচরণ কী হবে তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।
তিনি জামায়াতের নারী কর্মীদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে বলেন, দলের নেতারা যেভাবে নারীদের সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, তাতে নিজেদের অবস্থান নিয়ে তাদের ভাবা উচিত। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে জনগণের সামনে মিথ্যা বলা হচ্ছে।
সমাবেশে তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে, যাতে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন।
জনসভা শেষে তারেক রহমান খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং আগামী নির্বাচনে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি দুপুর ১২টা ২৪ মিনিটে হেলিকপ্টারে মাঠে পৌঁছে প্রায় ৩৮ মিনিট বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে তিনি যশোরের উদ্দেশে রওনা হন।





