“বিএনপির অপর নাম গণতন্ত্র, ১২ তারিখ গণতন্ত্রকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতে হবে” — সালাউদ্দিন আহমেদ

দারিদ্র বিমোচনে ফ্যামিলি কার্ড, সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড ও শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি

স্টাফ রিপোর্টার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র দীর্ঘ ১৬–১৭ বছরের রক্তঝরা সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, একসময় জনসভা করারও সুযোগ ছিল না, মানুষ গুমের শিকার হয়েছে। অসংখ্য শহীদ ও ছাত্রদের রক্তের বিনিময়ে আজ দেশে গণতন্ত্রের বাতাস বইছে।

তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করানোর সুযোগ। এমন একটি সাংবিধানিক ও সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কারও ভোটাধিকার বা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নামতে না হয়।

সালাউদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, “বিএনপির অপর নাম গণতন্ত্র।” তিনি বলেন, জনগণ সুযোগ দিলে বিএনপি প্রতিশ্রুত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।

দারিদ্র বিমোচনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দরিদ্র পরিবারের জন্য একটি “ফ্যামিলি কার্ড” চালু করা হবে, যার মালিক হবেন পরিবারের মা। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে বিনামূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়া হবে এবং ধীরে ধীরে সুবিধা বাড়ানো হবে। এতে নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

তিনি আরও বলেন, সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং দরিদ্র কৃষক, শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষদের প্রয়োজন হলে বেসরকারি হাসপাতালেও সরকারি খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

কৃষকদের জন্য পৃথক কৃষক কার্ডের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়—সব কৃষকই এই কার্ড পাবেন। এর মাধ্যমে আবহাওয়ার তথ্য, কৃষিঋণ, সার, বীজ ও কীটনাশক ন্যায্যমূল্যে পাওয়া যাবে। পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্যে বিক্রির ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

শিক্ষা খাতে পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা এবং বাধ্যতামূলক কারিগরি প্রশিক্ষণ চালু করা হবে। এতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

স্থানীয় লবণ চাষীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে অতীতে তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন। ভবিষ্যতেও কৃষক ও লবণ চাষীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবেন বলে আশ্বাস দেন।

সভায় তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হবে এবং বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।