স্টাফ রিপোর্টার৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল
বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের মতো শহর এলাকাতেও খাল খনন কর্মসূচি সমানভাবে জনপ্রিয় এবং সময়োপযোগী উদ্যোগ।
তারেক রহমান বলেন, খাল খননের মাধ্যমে বন্যার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে তিনি নোয়াখালী অঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই এলাকায় স্বল্প সময়ের জন্য বিপুল পরিমাণ পানি জমেছিল, যা নির্দিষ্ট সময় পর সরে যায়। কিন্তু যদি সেই পানি সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকত, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে কাজে লাগানো যেত।
তিনি একটি তুলনা তুলে ধরে বলেন, যদি ৫০ বর্গমাইল আয়তনের এবং গড়ে সাত ফুট গভীর একটি সুইমিংপুল কল্পনা করা হয়, তাহলে বোঝা যাবে কত বিশাল পরিমাণ পানি আমরা সংরক্ষণ না করে হারিয়ে ফেলি। এই পানি ধরে রাখতে খাল খনন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে। নলকূপ বসাতে এখন অনেক গভীরে বোরিং করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দ্রুত পানি পুনর্ভরণ বা রিচার্জের ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় সংকট দেখা দিতে পারে।
আর্সেনিক সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি অতিরিক্ত উত্তোলনের ফলে আর্সেনিকের ঝুঁকি বাড়ে। খাল খননের মাধ্যমে পানি রিচার্জ বাড়ানো গেলে আর্সেনিকের মাত্রা হ্রাস পেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন সড়কের পাশের গাছপালা শুকিয়ে যাওয়ার পেছনেও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার প্রভাব রয়েছে। গাছের শিকড় পর্যাপ্ত পানি না পেলে তারা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও খাল খনন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, পানি সংরক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।





