অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ার ওপর জোর অর্থমন্ত্রীর

উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে অর্থনীতিতে গণতন্ত্রীকরণের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার | ১০ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারে এবং উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে, সেজন্য বাংলাদেশকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, “শুধু রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলেই হবে না, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র থাকতে হবে।” সরকারের লক্ষ্য অর্থনীতিতে গণতন্ত্রীকরণ নিশ্চিত করা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রোববার রাজধানীর পিকেএসএফ মিলনায়তনে ‘স্টেপিং ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। এছাড়া বাংলাদেশ ও ভুটানে বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় পরিচালক ড. গেইল মার্টিন বক্তব্য দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং এর সুফল পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে পিকেএসএফ-এর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি জানান, এখন সরকার প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করছে।

তিনি বলেন, “আমরা এখন বিনিয়োগের বিপরীতে আয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় প্রকল্প মূল্যায়ন করছি। কোনো প্রকল্প এসব মানদণ্ড পূরণ করতে না পারলে তা গ্রহণ করা হবে না।”

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, করদাতাদের অর্থ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ব্যয় করতে হবে এবং প্রতিটি প্রকল্পের যৌক্তিকতা সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।

সরকারের অর্থনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে এখন সামাজিক কর্মসূচি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও সামাজিক সুরক্ষা বাড়াতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীরা পরিবারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পান না। তাই নারীদের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার।

স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসা বাবদ ব্যক্তিগত ব্যয় এখনও অনেক বেশি। তাই সরকার সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চায়। আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।

তিনি দেশের জনমিতিক সুফল কাজে লাগাতে দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

‘সৃজনশীল অর্থনীতি’র গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পী, কুটির শিল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মূলধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা, ব্র্যান্ডিং, বিপণন ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

অর্থমন্ত্রী ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ ধারণার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শীতলপাটির মতো পণ্যে বিশেষায়িত গ্রামগুলোকে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও অনলাইন বিপণনের সুযোগ দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পিকেএসএফের রেইজ দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও দুই লাখ তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংক ও পিকেএসএফের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার তরুণ প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা পেয়েছেন।

বক্তারা জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ৪ লাখ ২৩ হাজার ১শ’ মানুষ সরাসরি এ প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে চর, হাওর, পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকার তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি দলিত জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী তরুণদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নারীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে ১ হাজার ৬শ’ নারীকে ‘হোম-বেইজড চাইল্ডকেয়ার’ উদ্যোক্তা হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।