অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিরোধীদের সহযোগিতা চাইলেন অর্থমন্ত্রী

কঠিন সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত, দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে আশাবাদ



স্টাফ রিপোর্টার | ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিরোধী দলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্থনীতিকে সংকট থেকে উত্তরণ করা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে এবং সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।

সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি বলেন, “অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যার কিছু হয়তো জনপ্রিয় নাও হতে পারে।”

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, প্রয়োজনীয় সংস্কার, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ইতোমধ্যে কিছু সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বাকি উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশ একজন দূরদর্শী নেতার নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে, যা সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

ঋণ পুনঃতফসিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের উদ্ভাবন নয়। ব্যবসায়িক ক্ষতির প্রেক্ষাপটে এটি প্রয়োজনীয় হতে পারে, বিশেষ করে COVID-19 মহামারি বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়।

অর্থনৈতিক সূচক তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৭.১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে প্রায় ২৯.৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে প্রায় ৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে আগে এটি ১৮ শতাংশের বেশি ছিল। রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও কমেছে এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ১৪.৫ শতাংশ নেতিবাচক হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ৩০ শতাংশ ছাড়ালে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে এবং জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে এলএনজির দাম বৃদ্ধির কারণে।

সবশেষে তিনি বলেন, কাঠামোগত সংস্কার, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং ব্যবসা সহজীকরণ জরুরি। জাতীয় স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।