স্টাফ রিপোর্টার | ১ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক সংগ্রামকে স্মরণ করে আজ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য— “সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত”।
দিবসটি উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সভায় সভাপতিত্ব করবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
অন্যদিকে, মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ জাতীয় ও শ্রমিক নেতারা বক্তব্য রাখবেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, এ সমাবেশে লক্ষাধিক শ্রমজীবী মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মে দিবস উপলক্ষে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে পহেলা মে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। বাংলাদেশেও সরকারি ছুটির পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
মহান মে দিবসের সূচনা ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। শিল্প বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে শ্রমিকদের দিনে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হলে তারা ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে সংগঠিত হয়ে ওঠে।
ওই বছরের পহেলা মে দেশজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু হয়, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিকাগো। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৪ মে সংঘটিত হে মার্কেট বোমা বিস্ফোরণ ও পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন।
পরবর্তীতে কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে বিতর্কিত বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তা বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের জন্ম দেয় এবং শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৮৮৯ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে পহেলা মে-কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকেই দিনটি বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও মানবিক কর্মপরিবেশের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।





