স্টাফ রিপোর্টার | ১ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শ্রমজীবী মানুষের আত্মত্যাগ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, শ্রমিকরাই দেশের উন্নয়নের মূল কারিগর এবং অর্থনীতির চালিকাশক্তি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন-এর সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, শ্রমিক প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে ১৮৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের আত্মত্যাগ স্মরণ করেন এবং তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম দেশের শিল্প, কৃষি, পরিবহন ও নির্মাণসহ সব খাতকে এগিয়ে নিচ্ছে। প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের অবদান দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর শ্রমিকবান্ধব নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, তাঁর উদ্যোগেই বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া শ্রম আইন প্রণয়ন ও শ্রমকল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমান সরকার শ্রমিকদের কল্যাণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি। বন্ধ শিল্পকারখানা চালু ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ এবং পাটকল পুনরায় চালুর কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শ্রমিক-মালিকের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও টেকসই শিল্পোন্নয়ন সম্ভব। শ্রম অসন্তোষ এড়াতে সবাইকে দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান এবং ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার তাগিদ দেন।
রাষ্ট্রপতি জানান, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়নের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার আরও সুরক্ষিত করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিত করতে একাধিক কনভেনশন অনুস্বাক্ষর করা হয়েছে।
নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সমান কাজে সমান মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সবার নৈতিক দায়িত্ব।
বক্তব্যের শেষে রাষ্ট্রপতি শ্রমিক, মালিক ও সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানান এবং উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।





