আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান, দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আশা ক্ষীণ, তারেক রহমানকে গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী ও উদারপন্থীরা

ফাইল ছবি


স্টাফ রিপোর্টার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।


যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাপ্তাহিক সাময়িকী -এর সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এই মুহূর্তে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন।

সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাময়িকীটি উল্লেখ করে, রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসা তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। তার দেশে ফেরার সময়ের চিত্র তুলে ধরে দ্য ইকোনমিস্ট লিখেছে, বুলেটপ্রুফ বাসে ঢাকায় প্রবেশের সময় অসংখ্য সমর্থক রাস্তায় নেমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং ধীরগতিতে চলা বাসটিকে অনুসরণ করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচনী মাঠে তারেক রহমানের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে জানান দিচ্ছে যে তিনি এখন ক্ষমতার রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত মুখ। জনসভা থেকে জনসভায় ছুটে বেড়ানো, দেশ গড়ার পরিকল্পনার কথা বলা এবং সমর্থকদের ভিড় ও উত্তেজনা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্য ইকোনমিস্টের মতে, জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে, যা তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যবসায়ী মহল এবং উদারপন্থীদের বড় একটি অংশ তাকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা তার বক্তব্যে সংযম ও বাস্তববাদ এনেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, নির্বাচনে অংশ নিলে সংযত শাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দলটি এবার কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি এবং অতীত নির্বাচনগুলোতে সংসদে ১৮টির বেশি আসন পাওয়ার নজিরও নেই। পাশাপাশি ছাত্রনেতৃত্বাধীন নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলো ঐক্য গড়তে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

বিশ্লেষণের শেষ অংশে দ্য ইকোনমিস্ট উল্লেখ করে, ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে বড় পরিবর্তনের আশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই ম্লান। তবুও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন -এর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।