আদ-দ্বীনে নবজাতক মৃত্যু: জড়িত কেউ ছাড় পাবে না, পাঁচ শিশু হাসপাতাল হচ্ছে

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর; ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ, নারীদের জন্য পাঁচটি এক হাজার শয্যার হাসপাতালও হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার | ৩ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনোভাবেই তারা আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পাবে না।

বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়া মামলা হলে অনেক সময় আসামিপক্ষ সুবিধা পায়। তবে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় এমন কোনো সুযোগ থাকবে না। এ অপরাধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এ সময় দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লায় ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি হাসপাতালে থাকবে আধুনিক আইসিইউ সুবিধা। হাসপাতালগুলোর ফার্নিচার ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি হাসপাতালে প্রায় ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবল প্রয়োজন হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ জনবল নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রকল্প প্রস্তুত করেছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।

মিটফোর্ড হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কয়েকটি ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। সাবলেট দেওয়া এসব ভবন উচ্ছেদ করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে নতুন আধুনিক হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, চীন-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে দেশের পাঁচটি বৃহৎ শহরে বা শহরসংলগ্ন এলাকায় এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট পাঁচটি বিশেষায়িত নারী হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের কাজ চলতি অর্থবছরের মধ্যেই শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর নতুন ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালে ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হবে।

স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে এ খাত কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলে জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।