আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করছেন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করছেন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী

ছবি :সংগৃহীত

Posted by:

on

ঢাকা, ৬ অক্টোবর: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সর্বশেষ সাক্ষীর জেরা চলছে।

মামলার শেষ (৫৪তম) সাক্ষী হিসেবে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আলমগীরের সাক্ষ্য গ্রহণ গত মঙ্গলবার শেষ হয়। আজ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তাকে জেরা শুরু করেছেন পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।

ঐতিহাসিক এই মামলায় এর আগে সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের পিতা এবং স্বজনহারা পরিবারের অনেকে। এছাড়া স্টার সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।

প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এসএইচ তামিম শুনানি পরিচালনা করছেন। অপরদিকে, গ্রেফতার হয়ে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে আছেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

এক পর্যায়ে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

এছাড়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলা চলমান রয়েছে—এর একটি গুম-খুনের অভিযোগে এবং অপরটি ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা হয়েছে।

গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, দলীয় ক্যাডার ও প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব অভিযোগের বিচার কার্যক্রম চলছে।