ইরান ঘিরে যুদ্ধের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী বহর

সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিতে বাড়ছে উত্তেজনা, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সতর্ক অবস্থান

স্টাফ রিপোর্টার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার ইঙ্গিত দেন। এরই অংশ হিসেবে একটি বড় নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। সেই নৌবহরের অন্তর্ভুক্ত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী এবং এর সহায়ক যুদ্ধজাহাজগুলো ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা জানায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই নৌবহর বর্তমানে মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানকে উদ্দেশ করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আরও একটি যুদ্ধজাহাজের বহর মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে।

মার্কিন রণতরী পৌঁছানোর পর থেকেই ইরানে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গাল্ফ অঞ্চলের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম মিডিল ইস্ট আই জানায়, চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ হামলায় দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন, যদিও বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে মতপার্থক্য রয়েছে।

এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি যুবরাজ -এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট । আলোচনায় তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইসলামী দেশগুলোর ঐক্য ও সংহতির ওপর জোর দেন।

এদিকে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা সতর্ক করে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় কোনো প্রতিবেশী দেশের ভূমি, আকাশ বা জলসীমা ব্যবহার করা হলে সেই দেশকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করলে তা লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।

অন্যদিকে, ইরানে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের ঘটনায় উচ্চপদস্থ আইআরজিসি সদস্যসহ ২১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সম্পদ জব্দ ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হলে নীরব না থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী । গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকিকে তারা নিজেদের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে দেখবে।

এ পরিস্থিতিতে ইরানে সরকার পতনের সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে । মিডিল ইস্ট আই-এর আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিলে সীমান্তে বাফার জোন তৈরির পরিকল্পনা করছে আঙ্কারা। তুরস্কের এক সংসদ সদস্য জানান, ইরান থেকে যাতে কোনো শরণার্থী তুরস্কে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।