স্টাফ রিপোর্টার, ১৪ মার্চ ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, দেশের সকল শিল্প কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস অবশ্যই ঈদের ছুটির আগেই পরিশোধ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা নিয়ে যেন কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) ঢাকার বেইলি রোডে শ্রমমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে আরএমজি ও নন-আরএমজি সেক্টরে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে করণীয় নির্ধারণে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকা ভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের কাছে প্রদান করা হবে। সংসদ সদস্যরা সরাসরি কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বকেয়া বেতন ও বোনাস দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইউসিবিএল, ট্রাস্ট ও প্রিমিয়ার ব্যাংকসহ যেসব ব্যাংক ঋণ প্রদানে গড়িমসি করছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ঋণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কিছু শ্রমিক নেতা শ্রমিকদের অহেতুক উত্তেজিত করে শিল্প খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে পলাতক মালিকদের এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব কারখানায় যেন কোনো ধরনের গণ্ডগোল বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সবশেষে শ্রমমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী শ্রমিকদের যেকোনো সমস্যার সমাধানে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে এবং শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় সরকার সবসময় পাশে থাকবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন বলেন, সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বন্ধ কারখানাগুলো চালু করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনা রয়েছে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে কাজ করার।
বিজিএমইএ-র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামে চালু থাকা ২১২৭টি কারখানার মধ্যে ১৯৬৪টি (৯২.৩৪%) কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে এবং ১৫৩৫টি (৭২.১৭%) কারখানা ঈদের বোনাস পরিশোধ করেছে। তিনি বলেন, মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক নয়, তবে যেসব কারখানার সামর্থ্য রয়েছে তারা তা পরিশোধ করছে।
অন্যদিকে বিকেএমইএ-র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশের ৮৩৪টি কারখানার মধ্যে ৫১২টি ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দিয়েছে এবং ৬০৪টি কারখানা ঈদের বোনাস পরিশোধ করেছে। অধিকাংশ কারখানা বেতন-বোনাস পরিশোধ করায় শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা কম বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, আপদকালীন ফান্ড গঠন করা গেলে সেই অর্থ দিয়ে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সংক্রান্ত সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিন এবং গাজীপুর জেলার সংসদ সদস্যরা— মো. মজিবুর রহমান (গাজীপুর-১), এম মনজুরুল করিম রনি (গাজীপুর-২), এস এম রফিকুল ইসলাম (গাজীপুর-৩) এবং ফজলুল হক মিলন (গাজীপুর-৫) সহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।





