এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু, ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ

সিসিটিভি নজরদারিতে ২ হাজার ৬৯৭ কেন্দ্রে পরীক্ষা, ৯ শিক্ষা বোর্ডে প্রথমবার অভিন্ন প্রশ্নপত্র

স্টাফ রিপোর্টার | ২ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে। সকাল ১০টায় বাংলা প্রথমপত্র (আবশ্যিক) পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হওয়া পরীক্ষা বেলা ১টা পর্যন্ত চলে।

এবারের পরীক্ষায় দেশের ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব কেন্দ্রকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে প্রথমবারের মতো অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে প্রতিটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পৃথক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হতো।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

বোর্ডভিত্তিক হিসেবে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ৩৯৩ জন এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে কম ৫৮ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল’ চালু করা হয়েছে। এই সেল থেকে দেশের যেকোনো কেন্দ্রের পরীক্ষা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’র ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেদিন পরীক্ষা থাকবে না, সেদিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু থাকবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, যানজট এড়াতে পরীক্ষার্থীদের সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। নকলের জন্য বিতর্কিত সব ভেন্যু কেন্দ্র আগেই বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওর, পার্বত্য ও দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য বিশেষ বিবেচনায় কিছু কেন্দ্র বহাল রেখে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ ভুয়া প্রশ্ন ছড়ালে বা প্রশ্নফাঁসের অপচেষ্টা করলে সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।