এবার ৯ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা, প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টা করলে কঠোর শাস্তি: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য দূর করতে একক প্রশ্নপত্র, জুলাইয়ের মধ্যে এমপিও ও বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার | ২৫ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

বরিশাল: শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একক ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে প্রশ্ন ফাঁসের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

বৃহস্পতিবার আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সারা বিশ্বে ও লেভেল ও এ লেভেল পরীক্ষা একই প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হয়। তাহলে আমাদের দেশে বোর্ডভেদে আলাদা প্রশ্ন থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কোনো বোর্ডের প্রশ্ন সহজ, কোনো বোর্ডের প্রশ্ন কঠিন—এই বৈষম্য দূর করতেই এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের কোনো ধরনের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা ভবিষ্যতে অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

বিগত সরকারের শিক্ষা নীতির সমালোচনা করে ড. মিলন বলেন, নকল ও অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে পাস করানোর সংস্কৃতি দেশের শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বর্তমান সরকার মেধাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করবে।

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতনের বিষয়ে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের বাজেট বরাদ্দের ঘাটতির কারণে মে মাসের বেতন পরিশোধে সমস্যা হয়েছে। তবে আগামী জুলাইয়ের মধ্যে এমপিওসহ মে ও জুন মাসের সব বকেয়া বেতন একসঙ্গে পরিশোধ করা হবে।

তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের বেতন অনলাইনে পাঠানোর জন্য নেওয়া ইএফটি প্রকল্প আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে বিকল্প ব্যবস্থায় বেতন প্রদান করা হবে।

সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেলের ধারাবাহিকতায় শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

সভায় তিনি কেন্দ্র সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরীক্ষার শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো পরীক্ষার্থীকে অন্যায় সুবিধা না দেওয়ার নির্দেশ দেন।