প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিং পৌঁছেছেন, চীন সফরের মূল কর্মসূচি শুরু আগামীকাল

বিডার ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী, বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে

স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

বেইজিং: প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সরকারি সফরে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। এ সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

বুধবার (২৪ জুন) চীনের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে হাই-স্পিড (বুলেট) ট্রেনে বেইজিংয়ের চাওইয়াং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান চীনের ‘জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস’ (GACC)-এর মন্ত্রী এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (CPC) কমিটির সেক্রেটারি সুন মেইজুন।

রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী চীন সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ‘লাল গালিচা’ সংবর্ধনা ও আনুষ্ঠানিক ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ দেশটির উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্ট হাউসে (রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরও চীন সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘লাল গালিচা’ সংবর্ধনা জানানো হয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে সরকারি সফর সফলভাবে সম্পন্ন করে স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হন।

দালিয়ানে অবস্থানকালে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’-এর “Climate Leadership in a Shifting Global Landscape” শীর্ষক সেশনে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন। জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সফরের অংশ হিসেবে WEF-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

বুধবার সকালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্ল্যানারি সেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেশনের সাইডলাইনে তিনি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ অধিবেশনে সাতটি দেশের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। বিরতিতে বিশ্বনেতারা একটি যৌথ ফটোসেশনে অংশ নেন।

এবারের সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশের ১,৭০০-এর অধিক সরকারি প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।

আগামীকাল (২৫ জুন) বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‘Bangladesh Investment Forum’-এ প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, নীতিগত সুবিধা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তুলে ধরবেন। এতে অংশগ্রহণকারী চীনা বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক নেতারা বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করবেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মালয়েশিয়া সফরের পর চীন তাঁর দ্বিতীয় সরকারি বিদেশ সফর।

এর আগে ২১ জুন মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফরে কুয়ালালামপুর পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান তাঁকে অভ্যর্থনা জানান এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।

সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তাঁর একান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুই নেতা যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে অংশ নেন। এছাড়া মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেন তিনি।

সফর শেষে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

২২ জুন মালয়েশিয়া সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। দালিয়ান ঝৌশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে লিয়াওনিং প্রদেশের ভাইস গভর্নর বাই ইং তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী চীন সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘লাল গালিচা’ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।