এশিয়া সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক বৃহস্পতিবার

এশিয়া সফরে ট্রাম্প, বাণিজ্যচুক্তি ও শান্তি উদ্যোগ ঘিরে বিশ্বজুড়ে আগ্রহ

Posted by:

on

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৫ অক্টোবর ২০২৫, শনিবার | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ এশিয়া সফরে যাচ্ছেন। সফরের শেষ দিনে দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ট্রাম্পের দেখা হতে পারে—এমন গুঞ্জন উঠলেও, মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, এমন কোনো বৈঠক তাদের সূচিতে নেই।

ট্রাম্পের লক্ষ্য বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের মধ্যে চলমান তীব্র বাণিজ্যযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ‘সবকিছুর ওপর একটি চুক্তি’ করা।

৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নানা দেশে শুল্ক আরোপ ও কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন তুলেছেন।

তিনি এই মেয়াদে প্রথমবারের মতো এশিয়া সফরে যাচ্ছেন। সফর তালিকায় রয়েছে মালয়েশিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।

এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা শুক্রবার বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল অর্থনৈতিক অঞ্চলে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকান জনগণের জন্য সাফল্য বয়ে আনবেন।’ এ সময় তার একাধিক অর্থনৈতিক চুক্তি সই করার কথা রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি আঞ্চলিক সম্মেলনে যোগ দেবেন ট্রাম্প। সিউলের পুনরেকত্রীকরণ মন্ত্রী জানান, সম্মেলনে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এমন কোনো বৈঠক সূচিতে নেই।

তবে দুই নেতা আগেই জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনরায় জাগিয়ে তুলতে চান তারা।


শান্তি ও বাণিজ্য চুক্তি

ট্রাম্পের প্রথম গন্তব্য মালয়েশিয়া। তিনি রোববার সেখানে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দেবেন। প্রথম মেয়াদে এই সম্মেলন তিনি একাধিকবার এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে সই করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে তার সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর, যার তদারকি করবেন তিনি নিজেই।

এই শান্তি উদ্যোগকে অনেকে ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিতও দিয়েছেন উভয় পক্ষ।

এরপর ট্রাম্প সোমবার টোকিও পৌঁছাবেন। মঙ্গলবার তিনি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন। সদ্য দায়িত্ব নেওয়া তাকাইচি একজন রক্ষণশীল রাজনীতিক।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্প যে কঠোর শুল্ক আরোপ করেছেন, তার বড় ধাক্কা থেকে জাপান তুলনামূলকভাবে রেহাই পেয়েছে।

ট্রাম্পের অভিযোগ, ‘অন্যায় বাণিজ্য ভারসাম্য’ যুক্তরাষ্ট্রকে লুটে নিচ্ছে।’


দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প–সি বৈঠক

ট্রাম্পের সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ দক্ষিণ কোরিয়া।
তিনি বুধবার দেশটির বন্দরনগরী বুসানে পৌঁছাবেন। সেখানে শুরু হবে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলন।

তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এছাড়া ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে ও গিয়ংজু শহরে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির প্রধানদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেবেন।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে বহু প্রতীক্ষিত ট্রাম্প–সি চিন পিং বৈঠক। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি দুই নেতার প্রথম সাক্ষাৎ।

বিশ্ববাজারের নজর এখন এই বৈঠকের দিকে। বিশেষ করে ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের কারণে শুরু হওয়া বাণিজ্যযুদ্ধ বন্ধ হবে কি না, তা জানতে আগ্রহী সবাই।

বেইজিংয়ের বিরল খনিজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারির পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

প্রথমে ট্রাম্প বৈঠক বাতিলের হুমকি দিলেও পরে আবার অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

আরেক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ‘প্রেসিডেন্ট মূলত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েই আলোচনা করতে আগ্রহী।’

ট্রাম্প বলেন, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে প্রথমেই থাকবে ফেন্টানিল ইস্যু
তিনি চীনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন যাতে মাদক পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পাশাপাশি, লাতিন আমেরিকার মাদকচক্র দমনে যুক্তরাষ্ট্রও অভিযান জোরদার করেছে।


ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ

ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন মন্তব্য করেছেন, সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য ‘একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ।’

তিনি মার্কিন পত্রিকা পলিটিকো’কে বলেন, ‘এই বৈঠক ভেস্তে গেলে এর প্রভাব ব্যাপক হবে। এটি যেন লোহার পাশা ছোড়ার মতো—সফল হলে ফল বড়, ব্যর্থ হলে বিপদও ততটাই।’

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন–এর জ্যেষ্ঠ গবেষক রায়ান হাস বলেন, ‘এই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কে বড় কোনো পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না। এটি কেবল চলমান সম্পর্কের ধারাবাহিকতার একটি ধাপ।’