স্টাফ রিপোর্টার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
নওগাঁয় একটি রাজনৈতিক সমাবেশে ধর্মীয় আবেগ ও কবরের জবাবদিহিতার প্রসঙ্গ তুলে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামের একজন নেতা। বক্তব্যে তিনি বলেন, মানুষ মারা যাবে এবং কবরে গিয়ে তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সেই প্রশ্নগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, যারা “দ্বীন কায়েম” করতে চায় না তাদের ভোট দিলে মানুষ আমানতের খেয়ানত করবে।
বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, কবরের তিনটি প্রশ্ন হলো “মান রব্বুকা, মান নবীকা, মাননকা দ্বীন”। এরপর তিনি বলেন, যারা ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নে আগ্রহী নয়, তাদের ভোট দিলে কবরে গিয়ে কীভাবে জবাব দেওয়া হবে, সেটি নিয়েই ভাবতে হবে।
এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামের দলীয় অবস্থান তুলে ধরে বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যদি জামায়াতে ইসলামের কেউ খেয়ানত করে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “এই ভোটের পরে জামাতে ইসলামের কেউ যদি খেয়ানত করে তার কলিজা টেনে ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া হবে”। এমন বক্তব্য ঘিরে উপস্থিতদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বক্তব্যে তিনি বিএনপি প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এখনকার বিএনপি আর আগের বিএনপি এক নয়। তিনি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সময়কার বিএনপির সঙ্গে বর্তমান বিএনপির তুলনা করে বলেন, দলটির নীতি ও অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে বলে তার ধারণা।
এছাড়া জাতীয় পার্টির অতীত প্রসঙ্গ টেনে বক্তা বলেন, এরশাদের আমলে অনেকেই নীতি ধরে রেখে ক্ষমতার প্রতি আসক্ত ছিলেন না। তিনি উপজেলা পর্যায়ের রাজনীতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দাবি করেন, অনেকে পদে থেকেও কাজ করতে পারেননি, আবার কেউ কাজ করতে চাইলে পদে থাকার আগ্রহও দেখাননি।
খাদ্যনীতি নিয়েও বক্তা অভিযোগ করেন, আগের এক খাদ্যমন্ত্রী দেশের স্বার্থের বদলে ভারতের কথামতো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি তেলের ব্যবসা ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেকেই ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।
সবশেষে তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে বলেন, মানুষ যেন ভোট দেওয়ার সময় বিবেক ও জবাবদিহিতা মনে রাখে এবং ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেয়। তিনি আল্লাহর কাছে তৌফিক কামনা করে বক্তব্য শেষ করেন।





