গণভোট নিয়ে কোনো বড় ইস্যু নেই, সঠিক ব্যাখ্যা দেবে ইসি: শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে রেকর্ড ভোটার উপস্থিতির প্রত্যাশা

স্বৈরাচার ও অপশাসনের বিরুদ্ধে ‘হ্যাঁ’ ভোটে রেড কার্ড দেখাবে জনগণ, গণভোটই সংস্কারের প্রধান হাতিয়ার

স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ই জানুয়ারি | নিউজ চ্যানেল বিডি


গণভোট ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে অনলাইনে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো বড় কোনো ইস্যু নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে যথাযথ ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনেরই। নির্বাচন কমিশনই এ বিষয়ে প্রপার উত্তর দেবে এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরবে।

প্রেস সচিব বলেন, অনলাইনে কিছু অভিযোগ তোলা হলেও বাস্তবে এগুলো খুব বড় কোনো অভিযোগ নয়। এ নিয়ে অতিরিক্ত বিতর্কের সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবে।

শফিকুল আলম বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের রিকনসিলিয়েশন বা সমঝোতার আলোচনা দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো দুঃখ প্রকাশ, অনুতাপ বা রিগ্রেটের বক্তব্য শোনা যায়নি। বরং সম্প্রতি তাদের একজন সাবেক মন্ত্রীর বক্তব্যে শহীদের রক্ত নিয়ে উপহাসমূলক মন্তব্য লক্ষ্য করা গেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি বলেন, যাদের মধ্যে অনুতাপের কোনো লক্ষণ নেই, যারা অতীতের অপশাসন ও নিপীড়নের জন্য দায় স্বীকার করে না, তাদের এই সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া কঠিন। এ ধরনের রাজনীতির স্থান জনগণের আস্থার মধ্যে নয়, বরং আইনের আওতায়।

তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আওয়ামী লীগের ভেতরে যারা ভালো ও গ্রহণযোগ্য রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, তারা নিশ্চয়ই ভালো নেতৃত্ব বেছে নেবেন। একইভাবে দেশের জনগণ নিজ নিজ মতাদর্শ ও পছন্দ অনুযায়ী ভালো প্রার্থীকে ভোট দেবেন।

প্রেস সচিব আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ। দেশের আপামর জনসাধারণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। বর্তমানে গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই মানুষ অনলাইনের সঙ্গে যুক্ত। গ্রামের মানুষও ফেসবুক, টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণভোট ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

গ্রামের মানুষ এসব বিষয় বোঝেন না—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামে বসবাসকারী মানুষও রাজনৈতিক বাস্তবতা খুব ভালোভাবে বোঝেন। ফলে ১২ই ফেব্রুয়ারি তারা কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেবেন না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শফিকুল আলম বলেন, জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, অপশাসনের বিরুদ্ধে এবং গত ১৬ বছরের গুম-খুন ও নিপীড়নের রাজনীতির বিরুদ্ধে রেড কার্ড দেখাবে। এই ‘হ্যাঁ’ ভোট হবে সুশাসনের পক্ষে এবং একটি কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে।

তিনি বলেন, গণভোট নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি বড় ধরনের ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। অনলাইনে ও মাঠের রাজনীতিতে বিএনপি, এনসিপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নেতাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে।

প্রেস সচিবের মতে, এই সরকারের প্রধান ম্যান্ডেটই হচ্ছে সংস্কার। আর সেই সংস্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো গণভোট। জনগণের ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই সরকার সংস্কারের জন্য শক্তিশালী ম্যান্ডেট পাবে।

তিনি আরও জানান, সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে গণভোটের পক্ষে জনসচেতনতা সৃষ্টি করছেন এবং এটিকে সরকারের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন।

দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে নির্বাচন কাভার করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত বহু নির্বাচন দেখা হলেও এবারের মতো শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন খুব কমই হয়েছে। অতীতের নির্বাচনগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এবারের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সবশেষে তিনি বলেন, এই নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। ভোটার উপস্থিতির দিক থেকেও এটি বাংলাদেশের জন্য একটি রেকর্ড সৃষ্টি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।