স্টাফ রিপোর্টার | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
গণতন্ত্রকে বিকশিত ও শক্তিশালী এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করলে সমাজে সন্ত্রাস ও ঘুষ কমবে এবং সমাজ আরও পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ডিআরইউকে আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে দেখেছি’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে যখন কোনো আশ্রয় ছিল না, তখন ডিআরইউকে আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে দেখেছেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে অনেক টেলিভিশন ও পত্রিকা থাকলেও কথা বলা ও মতপ্রকাশের সুযোগ ছিল শুধু একজন ব্যক্তি ও একটি রাজনৈতিক দলের। এর বাইরে যারা মতপ্রকাশের চেষ্টা করেছেন, তাদের কেউ গুমের শিকার হয়েছেন, আবার কেউ কারাগারে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশের আহ্বান
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান না হলে পরিস্থিতি আরও কী হতো তা বলা কঠিন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, মিডিয়া, টকশো, টকশো হোস্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। এর মধ্যেও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের আলো কিছুটা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর সত্য প্রকাশ করতে হবে। সত্য প্রচার করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি এলেও সেই ঝুঁকি বরণ করে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।
আইনের শাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আদালতকে যেমন নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হয়, তেমনি গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে গণমাধ্যমকেও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘সাংবাদিকতার পেশাকে আরও মহিমান্বিত করতে হবে’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, আবার কেউ কেউ পৃথিবী থেকে চলে গেছেন।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতার এই মহত্তম পেশাকে আরও মহিমান্বিত করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। জনগণের সমস্যা, প্রত্যাশা, সাফল্য ও সম্ভাবনার কথা নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতা।
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে দ্রুত সংবাদ মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হলেও এর পাশাপাশি গুজব, অপতথ্য ও যাচাই-বাছাইহীন সংবাদের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দ্রুত সংবাদ দেওয়ার পাশাপাশি সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া পেশাদার সাংবাদিকদের বড় দায়িত্ব।
সড়ক পরিবহন, রেল যোগাযোগ ও জনসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ এগিয়ে চলছে উল্লেখ করে হাবিবুর রশিদ বলেন, এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন ও বাস্তবভিত্তিক মতামত সরকার ও নীতিনির্ধারকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।
এ সময় তিনি ডিআরইউয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও সব সদস্যের কল্যাণ কামনা করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনেরা
ডিআরইউয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউয়ের সভাপতি আবু সালেহ আকন। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।





