স্টাফ রিপোর্টার |১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট—উভয় আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন এবং সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন রিজওয়ান হাসান। তিনি বলেন, নির্বাচনের সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার রাজনৈতিক দল ও ভোটাররা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং বহু বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোও প্রস্তুত, কারণ দীর্ঘদিন তারা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেনি। যখন রাজনৈতিক দল, ভোটার, সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশন—সবাই প্রস্তুত, তখন নিঃসন্দেহে বলা যায় আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।”
রিজওয়ান হাসান বলেন, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে একটি গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হলেও রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও বর্বরতার মুখোমুখি হওয়ার পর ছাত্র-জনতার মধ্যে প্রকৃত পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে কেবল দৈনন্দিন প্রশাসন চালিয়ে একটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য আনা হয়নি। “আমরা শুরু থেকেই তিনটি বড় এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছি—সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন,” বলেন তিনি।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। ১১টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে যেসব কমিশন নির্বাচন ও ভোটের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত—সেসব কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুত করা হয়েছে।
রিজওয়ান হাসান বলেন, “জুলাই সনদের সুপারিশগুলো নিয়ে সপ্তাহ ও মাসব্যাপী সকল বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই গণভোটের প্রশ্নগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সুপারিশগুলোই ছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের রূপরেখা। সেই বড় দাগের পরিবর্তনের প্রস্তাবগুলোই গণভোটের প্রশ্ন আকারে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
গণভোটের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়, তাহলে জুলাইয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল এবং জুলাই-পরবর্তী সময়ে মানুষের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে—তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।”





