জাপানি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের

জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, সামুদ্রিক গবেষণা ও দূষণ রোধে যৌথ উদ্যোগে আগ্রহ

স্টাফ রিপোর্টার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার ঢাকার কেন্দ্রস্থলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাপানের সাবেক ফার্স্ট লেডি এবং জাপানি উদ্যোক্তাদের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে আকি আবে বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ড. ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

আলোচনায় বিনিয়োগ, সামুদ্রিক গবেষণা এবং জাপানে কেয়ারগিভার (সেবাকর্মী) ও নার্স নিয়োগে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে। জাপানে দ্রুত বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের বড় সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

সামুদ্রিক দূষণ প্রতিরোধে একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করে আকি আবে বলেন, “আমাদের বঙ্গোপসাগরে আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। আমরা এ প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে চাই।” তিনি সমুদ্র দূষণের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে বড় পরিসরের প্রচারণার ওপরও জোর দেন।

ড. ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের দায়িত্ব শেষ করে তিনি মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে টোকিও সফরের পরিকল্পনা করছেন। সেখানে তিনি -এর সঙ্গে একটি যৌথ সামুদ্রিক গবেষণা উদ্যোগে অংশ নেবেন।

প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশন নবগঠিত -এর সঙ্গে চট্টগ্রাম উপকূলে তিনটি ‘মডেল ফিশিং ভিলেজ’ (আদর্শ মৎস্য গ্রাম) স্থাপনের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনাও করেছে।

তিনি আরও বলেন, তাঁর সরকার জাপানে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে হাজার হাজার নার্স ও কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণের উদ্যোগ জোরদার করেছে এবং জাপানি ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে অন্তত এক লাখ কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে চুক্তি করেছে বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে জাপানের শীর্ষ জৈব জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান -র প্রতিষ্ঠাতা বক্তব্য রাখেন এবং বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ড. ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচনের পর তিনি তাঁর আগের কাজে ফিরে যাবেন এবং ভবিষ্যতে রাজনীতিতে যোগদান বা কোনো সরকারি পদে থাকার ইচ্ছা নেই বলে পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তিনি মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাঁর ‘তিন শূন্যের বিশ্ব’—শূন্য বেকারত্ব, শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ ও শূন্য সম্পদ পুঞ্জীভূতকরণ—এই ভিশন বাস্তবায়নে মনোযোগ দেবেন।

বৈঠকে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব উপস্থিত ছিলেন।