স্টাফ রিপোর্টার,০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,নিউজ চ্যানেল বিডি
বাংলাদেশ জামাতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফাইড এক্স (সাবেক টুইটার) একাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে করা একটি পোস্ট ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে দেওয়া ওই পোস্টের একটি অংশ অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “আমরা বিশ্বাস করি যে যখন মহিলাদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখী হয়।”
সমালোচকদের দাবি, বক্তব্যটি নারীদের প্রতি অবমাননাকর এবং সমাজকে পিছিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। এর আগে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও নারীদের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তার মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
পোস্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর একাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি তোলা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে তারা হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানতে পারেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, যদি তখনই জানা যায়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে জনসাধারণ ও গণমাধ্যমকে কেন অবহিত করা হলো না। রাত প্রায় ৩টা ৩০ মিনিটে হাতিরঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই বিলম্ব এবং পরবর্তীতে একাউন্ট দ্রুত ফিরে পাওয়ার দাবি নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সময়ে সংশ্লিষ্ট নেতার ফেসবুক একাউন্টে নিয়মিত পোস্ট দেখা গেলেও এক্স একাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়ে সেখানে কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে মাহাদী আমিন বলেন, নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সম্মান ও সমঅধিকারের প্রশ্নে কোনো আপসের সুযোগ নেই। তার ভাষায়, “এ ধরনের বক্তব্য কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, অতীতেও দলটির বিভিন্ন নেতার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নারী অধিকার সংশ্লিষ্ট মহলে সমালোচনা হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী না দেওয়া, দলীয় প্রধান পদে নারী না থাকার ঘোষণা এবং নারী রাজনীতিকদের নিয়ে মন্তব্য—এসব বিষয় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় নারী প্রার্থীদের অনলাইন ও অফলাইনে হেনস্থার অভিযোগও সামনে এসেছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।





