✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮

জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের বড় পরিকল্পনা, খনন করা হবে ১৫০টি কূপ

সৌরবিদ্যুতে প্রণোদনা, নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

স্টাফ রিপোর্টার | ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিগত সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা ও বিদেশে অর্থ পাচারের মতো গভীর সংকট কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘সাসটেইনেবল পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি: ড্রাইভিং ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংস্কারে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর অব্যাহতি ও প্রণোদনা

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার পূর্ণাঙ্গ কর অব্যাহতি ও প্রণোদনা সুবিধা দিয়েছে। বাসাবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি এসব প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক দরের চেয়ে বেশি মূল্যে কিনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গ্যাস অনুসন্ধানে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

গ্যাস সংকট নিরসনে তিন থেকে চারটি নতুন ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ উদ্যোগে কোরিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

নতুন জ্বালানি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা

আমির খসরু বলেন, মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে ২০ মিটার গভীরতাসম্পন্ন একটি নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খালাসের সুবিধাসংবলিত আধুনিক টার্মিনাল স্থাপন করা হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে একটি আধুনিক জ্বালানি হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতের উন্নয়নে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

এনবিআর পুনর্গঠন ও ব্যাংকিং খাতে সংস্কার

অর্থমন্ত্রী জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন—এই দুটি পৃথক বিভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত কমবে এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার পুনর্গঠন এবং ব্যবসার ব্যয় কমিয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধ শিথিলের উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, হংকংয়ের পুঁজিবাজারে বাংলাদেশের জন্য একটি পৃথক ইকুইটি ফান্ড গঠন করা হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজার ও বন্ড খাতে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

অর্থনীতি স্থিতিশীল হলে প্রবৃদ্ধি বাড়বে

একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, অর্থনীতি স্থিতিশীল হলে তা স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে এবং পরবর্তী সময়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। এ জন্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আলোচনায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক।

এ ছাড়া এফআইসিসিআইয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।