ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য: ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার ও দেশ পুনর্গঠনের অঙ্গীকার

নারী, কৃষক, যুবক ও উত্তরাঞ্চল উন্নয়নে একাধিক কর্মসূচির ঘোষণা


ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি |৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি


ঠাকুরগাঁও : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঠাকুরগাঁও জেলা ও আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন। দীর্ঘদিন পর ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে উপস্থিত হতে পারায় তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অতীত স্মৃতিচারণ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক

বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান বলেন, অতীতে প্রায় প্রতিবছর শীত মৌসুমে তিনি ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম, উপজেলা ও পৌরসভায় গিয়ে শীতার্ত মানুষের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করতেন। সেই স্মৃতি তুলে ধরে তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।

নির্বাচন ও ভোটাধিকার প্রসঙ্গ

তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের নির্বাচন। গত এক যুগ ধরে মানুষের কাছ থেকে রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নির্যাতিত পরিবার ও আত্মত্যাগের কথা

জনসভায় তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার বহু পরিবারের সদস্যরা আজ সমাবেশে উপস্থিত আছেন। তাদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

দেশ পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষ শুধু রাজনৈতিকভাবেই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও পিছিয়ে পড়েছে। তরুণদের কর্মসংস্থান, নারীদের স্বাবলম্বিতা এবং কৃষকদের অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়নি।

নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড

তিনি ঘোষণা দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক গৃহিণীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীরা মাসিক আর্থিক সহায়তা পাবেন এবং ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন।

কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড ও ঋণ মওকুফ

কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘কৃষি কার্ড’-এর মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ, সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং ক্ষুদ্রঋণের বোঝা থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

উত্তরাঞ্চল উন্নয়ন ও শিল্পায়ন

ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড় অঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তারেক রহমান। কৃষিসংশ্লিষ্ট শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে বলে তিনি জানান।

যুব সমাজ ও আইটি হাব

এলাকার শিক্ষিত কিন্তু বেকার তরুণদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি আইটি খাতে কর্মরত তরুণদের জন্য আইটি হাব স্থাপনের কথাও বলেন তিনি।

কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও হিমাগার

কৃষিপণ্য সংরক্ষণের সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী হিমাগার নির্মাণ করা হবে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত

গ্রামে গ্রামে মা ও শিশুদের জন্য ঘরে বসে চিকিৎসাসেবা দিতে হেলথকেয়ার কর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যাডেট কলেজ স্থাপনের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

বিমানবন্দর ও অবকাঠামো উন্নয়ন

ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরের কাজ দ্রুত শেষ করে চালু করার আশ্বাস দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রদর্শন

তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে মানুষ এগিয়ে যাবে—ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হবে না।

ভোটের আহ্বান ও সমাপ্তি বক্তব্য

বক্তব্যের শেষাংশে তারেক রহমান বলেন, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। দেশ পুনর্গঠনের জন্য জনগণের সমর্থন, দোয়া ও ভোট প্রয়োজন। তিনি ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।


#ঠাকুরগাঁও #তারেকরহমান #বিএনপি #জনসভা #নির্বাচন #ধানেরশীষ #ভোটাধিকার #দেশপুনর্গঠন