স্টাফ রিপোর্টার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
ঢাকা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজ এক সরাসরি সম্প্রচারে দলটির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ছুটির দিনের ব্যস্ততা উপেক্ষা করে উপস্থিত কূটনীতিক, সাংবাদিক ও দলের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন নতুন করে পুনর্গঠনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। দলের প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি দেশের সার্বভৌমত্ব সুদৃঢ় করা, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তি স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ করেছিলেন। স্বাধীনতার পর ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ তকমা থেকে দেশকে বের করে স্বনির্ভর রাষ্ট্রে রূপ দেওয়ার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর দেশে স্বৈরশাসন ফিরে এলেও দেশনেত্রী –এর আপসহীন আন্দোলনে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়। পরবর্তীতে তাঁর নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়, নারীশিক্ষা বিস্তৃত হয় এবং ২০০১ সালের পর অর্থনীতি গতি পায়।
গত দেড় দশকের বেশি সময়কে তিনি ‘ফ্যাসিবাদী শাসনকাল’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ সময়ে জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশ আজ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে এবং আবারও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পাঁচ স্তম্ভে বিএনপির ইশতেহার
তারেক রহমান জানান, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি পাঁচটি মূল স্তম্ভে তাদের ম্যানিফেস্টো সাজিয়েছে—
- রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার
- বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা
- ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার
- অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন
- ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতি
রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও জাতি গঠন, সাংবিধানিক সংস্কার, সুশাসন এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। ৩১ দফা ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, এগুলো গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করবে এবং ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকাবে।
তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো জবাবদিহিতা। রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার প্রতিটি স্তরে একাউন্টেবিলিটি নিশ্চিত না হলে অপশাসন ও দুর্নীতি রোধ সম্ভব নয়। বিগত বছরগুলোতে ভোটাধিকার না থাকায় জবাবদিহিতাও ছিল না বলেই এসব সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শেষে তিনি বলেন, বিএনপির এই পরিকল্পনার লক্ষ্য প্রায় ২০ কোটি মানুষের জন্য একটি গণতান্ত্রিক, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে তরুণ, নারী, কৃষক ও শ্রমিক সবার জন্য দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।





