স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ আগস্ট ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত, পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি।
আজ সোমবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের আয়োজনে ‘তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিস্তা উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি জেলার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। শুষ্ক মৌসুমে পানির স্বল্পতা এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানির প্রবাহ দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, নদীর ভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে অতিদ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
গঙ্গা চুক্তি প্রসঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে যথাসময়ে চুক্তি নবায়নের কাজ চলছে। পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সেমিনারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি তিস্তা পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ কাছ থেকে দেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। অতিদ্রুত তিস্তা পাড়ের মানুষের দুর্দশা লাঘবে গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রত্যাশা করেন তিনি।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, সরকার তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের চাওয়া তিস্তা মহাপরিকল্পনার ব্যবস্থাপনা টেকসই করতে কাজ করছে। ইতোমধ্যে কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে। তিস্তায় টেকসই সমাধানের পাশাপাশি পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার আজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত, যৌথ নদী কমিশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আবুল ফজল এম সালেহ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন।
সেমিনারে তিস্তা নদীর চ্যালেঞ্জ বিষয়ে কী-নোট উপস্থাপন করেন বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাসফিকুস সালেহীন। ‘সাসটেইনেবল ম্যানেজমেন্ট অপশানস’ বিষয়ে উপস্থাপন করেন পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান। এছাড়া ‘ওয়াটার কনজার্ভেশন অ্যান্ড ইরিগেশন ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ে উপস্থাপন করেন রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মোহা. সরফরাজ বান্দা।





