নির্বাচনের দিন ছাড়া গণভোটের সিদ্ধান্ত মানবে না বিএনপি: মির্জা ফখরুল

ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব একপেশে, জবরদস্তিমূলক ও অবিবেচনাপ্রসূত — জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি সরকারের নেই

Posted by:

on

ঢাকা, ৩০ অক্টোবর ২০২৫, বৃহস্পতিবার:নিউজ চ্যানেল বিডি |


গুলশান চেয়ারপার্সন অফিসে আয়োজিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “নির্বাচনের দিন ছাড়া কোনো গণভোটের সিদ্ধান্ত বিএনপি কখনোই মেনে নেবে না।”

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রস্তাবিত গণভোট সম্ভব নয়। সময়, অর্থ ও প্রশাসনিক বিবেচনায় এটি “অযৌক্তিক ও অবিবেচনাপ্রসূত উদ্যোগ”।


ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব একপেশে ও চাপিয়ে দেওয়া

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত দফাগুলোর ওপর গণভোটের কথা বলা হলেও “জুলাই সনদে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত, ভিন্নমত ও নোট অব ডিসেন্ট কোথাও উল্লেখ করা হয়নি।”
তার ভাষায়,

“কমিশনের প্রস্তাব ও সুপারিশ একপেশে ও জবরদস্তিমূলকভাবে জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।”


বছরব্যাপী আলোচনা ছিল প্রহসনমূলক

মির্জা ফখরুল বলেন, “দীর্ঘ এক বছর ধরে সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা ছিল অর্থহীন, প্রহসনমূলক এবং জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার এখতিয়ার সরকারের নেই। কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকারকেও উপেক্ষা করেছে।”


স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধান অন্তর্ভুক্তির বিধান ‘হাস্যকর’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার শেষ না হলে গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কার বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে — এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, হাস্যকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

তার মতে,

“জাতীয় সংসদে অনুমোদনের পর যেকোনো বিল রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর পাওয়ার পরই কেবল আইনে পরিণত হয়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি গণতান্ত্রিক রীতি ও সংসদীয় সার্বভৌমত্বের পরিপন্থি।”


গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিএনপির অঙ্গীকার

মির্জা ফখরুল বলেন,

“দেশ ও জনগণের কল্যাণে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্র পরিচালনা পদ্ধতি ও জাতীয় অর্থনীতির বিকাশে বিএনপি যুগান্তকারী সংস্কার ও উন্নয়নের পদক্ষেপ নিয়েছে।”

তিনি যোগ করেন,

“আমরা চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার সাফল্য কামনা করি, তবে একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশ ও জনগণের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে বাধ্য।”