পুলিশ ভয়ের নয়, আস্থার প্রতীক হতে হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

মানবিকতা, সততা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। ৪১তম সহকারী পুলিশ সুপারদের পাসিং আউট অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্টাফ রিপোর্টার | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ৪১তম সহকারী পুলিশ সুপারদের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আজকের এই পাসিং আউট কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি নয়, বরং একটি দায়িত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং কর্মজীবনের সূচনা।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ এক বছরব্যাপী কঠোর শারীরিক, মানসিক ও একাডেমিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপনারা আজ রাষ্ট্র ও জনগণের সেবায় নিজেদের প্রস্তুত করেছেন। এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, রাষ্ট্র ও জনগণের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ শুধু একটি আইন প্রয়োগকারী বাহিনী নয়, এটি রাষ্ট্র ও জনগণের সেবক। নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর ভিত্তি হতে হবে জ্ঞানভিত্তিক, নৈতিক ও মানবিক মানদণ্ড।

আইন প্রয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগ মানেই কঠোরতা নয়। প্রকৃত শক্তি নিহিত আছে ন্যায়ভিত্তিক ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তে। তদন্ত, গ্রেপ্তার ও আচরণে পুলিশের বিচক্ষণতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই পুলিশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা প্রভাব যেন পুলিশের বিবেককে দুর্বল করতে না পারে। বাংলাদেশ পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়—এটি জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত রাষ্ট্রের সেবক।

দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের বিশ্বাস নষ্ট করে। কোনো পুলিশ সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ বা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হয়, তবে সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেই দুর্বল করে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এবারই প্রথমবারের মতো নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনে প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে কোনো প্রকার অনৈতিক সুবিধা—even খাবার—গ্রহণ না করার জন্য তিনি কঠোর নির্দেশনা দেন।

বক্তব্যের শেষাংশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আপনারা শুধু আজকের পুলিশ নন—আপনারা ভবিষ্যতের বাংলাদেশের পুলিশ। জনগণের আস্থা অর্জনই হবে পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি।