প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ এর উদ্বোধন

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী ও পরিবারসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা ফিতা কেটে মেলার দ্বার উন্মুক্ত করেন

স্টাফ রিপোর্টার , ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,নিউজ চ্যানেল বিডি

আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন করেছেন। বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি। পরে বিকেল ৩টা ১৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে ফিতা কেটে মেলার দ্বার উন্মুক্ত করেন। উদ্বোধনের পরে তিনি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫ বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস, প্রবন্ধ-গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক, শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ, অনুবাদে আলী আহমদ, গবেষণায় মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান, বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী এবং মুক্তিযুদ্ধে মঈদুল হাসান এ বছর পুরস্কার পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী দুপুর দুইটার দিকে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ধর্মগ্রন্থ পাঠ এবং ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি… আমি কি ভুলিতে পারি’ গান পরিবেশিত হয়। এছাড়া ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।

এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মিলিয়ে মেলার আয়োজন করা হয়েছে, যা ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত (ছুটির দিন ছাড়া) মেলাপ্রাঙ্গণ খোলা থাকবে।

মেলায় ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল বসিয়েছে। পরিবেশবান্ধব ‘জিরো ওয়েস্ট বুক ফেয়ার’ হিসেবে মেলা আয়োজন করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা, ধুলা নিয়ন্ত্রণ ও মশক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

শিশুপ্রহর ও শিশু কর্নারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক আয়োজন থাকবে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূলমঞ্চে সেমিনার এবং ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

বিভিন্ন পুরস্কারও প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত সেরা মানের বইয়ের জন্য ‘চিত্ররঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’, সেরা নান্দনিক বইয়ের জন্য ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’, শিশুতোষ গ্রন্থে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং সেরা সজ্জিত স্টলের জন্য ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এ বছর নতুন করে প্রবর্তিত ‘সর্দার জয়নউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’ প্রথমবার অংশ নেওয়া প্রকাশকদের মধ্যে মানসম্মত বই প্রকাশের ভিত্তিতে দেওয়া হবে।