নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি বিএনপি প্রার্থীর
স্টাফ রিপোর্টার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে ঢাকা–৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বলেছেন, প্রশাসনের কোনো পর্যায় যেন কোনো রাজনৈতিক দলের দালালি না করে। প্রশাসন যদি দলীয় পক্ষপাতিত্ব করে, তাহলে জনগণ কঠিন জবাব দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেল স্টেশন পার্কিং এলাকায় ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশনেত্রী –এর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।
ইশরাক হোসেন বলেন,
“আমি প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং সকল পর্যায়ের প্রশাসনের উদ্দেশে বলতে চাই—কোনো দলের দালালি আমরা সহ্য করব না। অতীতে আওয়ামী লীগের দালালি করা হয়েছে। এখন যদি আরেকটি দলের দালালি করা হয়, তাহলে জনগণ তার জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও হয়রানির শিকার হয়েছেন, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নজিরবিহীন দমন-পীড়নের উদাহরণ।
রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও এখনকার মতো রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ছিল না। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের সময়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তখন পুলিশ সম্মান দেখিয়ে বাসায় প্রবেশ করত, কিন্তু আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে হত্যা, গুম ও নিপীড়ন চালানো হয়েছে।
বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দলটি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, বরং সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাসী।
“রাজনীতি থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একে অপরকে নিশ্চিহ্ন করার রাজনীতি আমরা করি না।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচন বন্ধের ষড়যন্ত্র হলে জনগণ তা রুখে দেবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হবে, তাদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে এবং পাঁচ বছর পরপর জনগণই ঠিক করবে কে দেশ পরিচালনা করবে।
মতবিনিময় সভায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নাকচ করে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি কোথাও নিজের বা দলের পক্ষে ভোট চাননি। তবুও পুলিশ ব্যানার খুলে নেয় এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে যেন ভয় ও বিভ্রান্তি না থাকে, সে কারণেই এসব মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে। বিএনপি আন্দোলন করেছে ক্ষমতার জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য—এ কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মকবুল হোসেন টিপু, গেন্ডারিয়া থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ঢালী মামুনুর রশিদ অপু, ওয়াসেক বিল্লাহ, আব্দুল খালেক, রফিকুল ইসলাম সোহেল, মাকসুদ আলম চৌধুরী, নাসেমুল আবেদিন রেন্টু, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ফারুক, সিনিয়র সহসভাপতি আশরাফ উদ্দিন শিপন, সাধারণ সম্পাদক ওমর মোতালেব টিটুসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।





