স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম কমিশন গঠন বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ কমিশন গণমাধ্যম খাতের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ নির্দেশ করবে এবং একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সোমবার রাজধানীর তথ্য ভবনের ডিএফপি সম্মেলন কক্ষে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘বাকশালী শাসনে সংবাদপত্র বন্ধের কালো দিবস’ স্মরণে এবং ‘ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় মিডিয়ার ব্যর্থতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে বহুমতের সহাবস্থান এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জবাবদিহিতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠ অবস্থান ছাড়া স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
তিনি অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার ও উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলো আংশিক ছিল এবং সেগুলো কখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। ফলে দেশের গণমাধ্যমকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।
মন্ত্রী জানান, অতীতে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে গঠিত প্রেস কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের সুযোগ হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে নতুন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। কমিশনে তথ্য ও আইন মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল, সাংবাদিক সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করারও আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কমিশনটি গণমাধ্যম খাতের নীতি, আইন ও কাঠামো প্রণয়নের পাশাপাশি পেশাগত ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের পথ নির্দেশ করবে। একই সঙ্গে নীতিবদ্ধ সাংবাদিকতা বিকাশে সহায়তা করবে এবং অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে।
উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের অফিস অব কমিউনিকেশনস (অফকম), যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে সফল হয়েছে। বাংলাদেশেও অনুরূপ একটি কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সম্পাদক, মালিক, সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। কমিশনের লক্ষ্য ও কাঠামো নিয়ে শুরুতেই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা না গেলে অতীতের মতো উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারুফ কামাল খান সোহেল।
মূল প্রবন্ধে মারুফ কামাল খান বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তিনি ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের পর সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিলের ঘটনাকে সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, প্রকৃত গণমাধ্যম স্বাধীনতা হলো স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা। তিনি সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।





