স্টাফ রিপোর্টার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে নাইদ ইসলাম বলেন, আজকের এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সকল মুক্তিকামী মানুষ, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরদের এবং বীরাঙ্গনাদের স্মরণ করছি। তাঁদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই আমরা এই স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি।
তিনি বলেন, স্বাধীন ভূখণ্ড পেলেও গত ৫৪ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করা হয়েছে। “মুক্তিযুদ্ধের যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে এই দেশ গঠন করা হয়েছিল, সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আমরা করতে পারিনি। এ দেশে না সাম্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে, না মানবিক মর্যাদা, না সামাজিক সুবিচার। বরং ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছিল।”
নাইদ ইসলাম বলেন, সেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধেই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও গণবিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। “৪৭ থেকে ৭১, ৭১ থেকে ২৪—এই দীর্ঘ ঐতিহাসিক লড়াইয়ের যে উদ্দেশ্য, সেই উদ্দেশ্য ধারণ করেই আমরা সামনের বাংলাদেশের বিনির্মাণ করতে চাই।”
তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তাঁদের বার্তা হলো—পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানান অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। অথচ দেশের মানুষ এখন স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক পরিবেশ চায়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় এখনো জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি সরকার। “ফলে আমাদের নিজেদের নিরাপত্তা আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের মধ্যে আমাদের সংগঠন আরও শক্ত করতে হবে।”
তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর আমরা দেখেছি—যখন সরকার ছিল না, পুলিশ ছিল না, তখন জনগণ নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল। বাংলাদেশ আবার সেই পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর করে আমাদের জীবন, আমাদের যোদ্ধা—জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।”
নাইদ ইসলাম জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সামনে যে নির্বাচন আসছে, সেটি মূলত একটি গণভোট। “আমরা প্রত্যাশা করি, আগামী নির্বাচন ও গণভোটে সংস্কারের পক্ষে একটি গণজোয়ার তৈরি হবে।”
তিনি বলেন, এনসিপির এমপি পদপ্রার্থীরা সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান নিয়ে জনগণের দ্বারে দ্বারে যাবেন। “আমরা সংস্কারের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। বাংলাদেশকে আর কখনোই ৫ আগস্টের আগের জায়গায় ফেরত নেওয়া হবে না।”
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎমুখী রাজনীতির প্রত্যয় নিয়েই আমরা আজকের বিজয় দিবস উদযাপন করছি। ৭১-এর দালালদের বিরুদ্ধে, ২৪-এর দালালদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ ও তরুণরা ঐক্যবদ্ধ। সামনের বাংলাদেশ আমাদের বিজয় হবেই।”





